ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরের কৈখালীতে পাচারের সময় বিএডিসির ৫৭ বস্তা সার জব্দ

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৮ Time View
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে পাচারের সময় বিএডিসির ৫৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ইউনিয়নের জয়াখালী চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে সারগুলো জব্দ করা হয়।জানা গেছে, বিএডিসির সার শুধুমাত্র নিবন্ধিত ডিলারদের মাধ্যমে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রান্তিক কৃষকদের কাছে বিক্রি করার কথা। অভিযোগ রয়েছে, কৈখালী ইউনিয়নের বোশখালী গ্রামের আদর আলীর ছেলে ও আরিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুর রহমান নিজ নামে বিএডিসির ডিলার লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও সাতক্ষীরা সদরের রোজিনা খাতুনের নামে ইস্যুকৃত শাপলা এন্টারপ্রাইজ-এর লাইসেন্স ব্যবহার করে বিএডিসির সার উত্তোলন করে আসছিলেন।
কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, আমিনুর রহমান সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে সার উত্তোলন করছেন এবং ইউনিয়নের কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি না করে অন্যত্র বেশি দামে বিক্রি করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাপলা এন্টারপ্রাইজের নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই, এমনকি ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠানের কোনো সার গুদামও নেই। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবশেষে অন্য ইউনিয়নে সার পাচারের সময় সারগুলো জব্দ করা হয়।জয়াখালী গ্রামের প্রান্তিক কৃষক হাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিএডিসির ডিলারের কাছ থেকে সার কিনতে গেলে বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়। অনেক সময় সার নিতে হলে সঙ্গে কীটনাশকও কিনতে বাধ্য করা হয়। ফলে তারা বাইরে থেকে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হন।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আমিনুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউর ইসলামের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিবাশীষ দাস বলেন, বিষয়টি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শ্যামনগরের কৈখালীতে পাচারের সময় বিএডিসির ৫৭ বস্তা সার জব্দ

Update Time : ১২:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে পাচারের সময় বিএডিসির ৫৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ইউনিয়নের জয়াখালী চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে সারগুলো জব্দ করা হয়।জানা গেছে, বিএডিসির সার শুধুমাত্র নিবন্ধিত ডিলারদের মাধ্যমে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রান্তিক কৃষকদের কাছে বিক্রি করার কথা। অভিযোগ রয়েছে, কৈখালী ইউনিয়নের বোশখালী গ্রামের আদর আলীর ছেলে ও আরিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুর রহমান নিজ নামে বিএডিসির ডিলার লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও সাতক্ষীরা সদরের রোজিনা খাতুনের নামে ইস্যুকৃত শাপলা এন্টারপ্রাইজ-এর লাইসেন্স ব্যবহার করে বিএডিসির সার উত্তোলন করে আসছিলেন।
কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, আমিনুর রহমান সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে সার উত্তোলন করছেন এবং ইউনিয়নের কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি না করে অন্যত্র বেশি দামে বিক্রি করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাপলা এন্টারপ্রাইজের নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই, এমনকি ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠানের কোনো সার গুদামও নেই। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবশেষে অন্য ইউনিয়নে সার পাচারের সময় সারগুলো জব্দ করা হয়।জয়াখালী গ্রামের প্রান্তিক কৃষক হাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিএডিসির ডিলারের কাছ থেকে সার কিনতে গেলে বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়। অনেক সময় সার নিতে হলে সঙ্গে কীটনাশকও কিনতে বাধ্য করা হয়। ফলে তারা বাইরে থেকে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হন।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আমিনুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউর ইসলামের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিবাশীষ দাস বলেন, বিষয়টি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।