সবুজ ভবিষ্যতের অঙ্গীকারে পবিপ্রবিতে নবীনদের বরণ
- Update Time : ১১:৩২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / ২৪ Time View

মো. সজিব সরদার
স্টাফ রিপোর্টার: “একজন শিক্ষার্থী, একটি গাছ—একটি সবুজ ভবিষ্যৎ” স্লোগানকে সামনে রেখে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছভুক্ত লেভেল-১, সেমিস্টার-১-এ ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, অভিভাবক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবনিযুক্ত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. নুরুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মাসুদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, আবাসন, গ্রন্থাগার, ল্যাবরেটরি, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা করেন। এতে নবীন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “তোমরা বিদ্যালয় ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে মুক্তবুদ্ধি চর্চার অঙ্গনে প্রবেশ করেছ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়; এটি জ্ঞান অন্বেষণ, গবেষণা, যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশ, কুসংস্কারমুক্ত মনন গঠন এবং সত্য অনুসন্ধানের অনন্য ক্ষেত্র।”
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ছাত্রবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া ফ্রি করা হয়েছে এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের র্যাগিং বরদাশত করা হবে না। সময়ানুবর্তিতা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, গ্রন্থাগারের কার্যকর ব্যবহার এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক একজন শিক্ষার্থীর সফলতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
তিনি নবীনদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন, কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম. জহুরুল হক, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল হক, এএনএসভিএম অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আবদুল মালেক এবং প্রক্টর প্রফেসর আবুল বাশার খান।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে সোহেল রানা জনি, তন্ময়, সুবর্ণা নুরজাহান জিনিয়া, আখলাক আলম, শেখ আরিফুল ইসলাম ও জান্নাতুল আফসোরা বক্তব্য দেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশে নিজেদের দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অভিভাবকদের পক্ষে শাহাদাত হোসেন ও শাহিনুর আলম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিক আয়োজনের প্রশংসা করে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা, নৈতিক বিকাশ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা ফুল দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য হিসেবে বরণ করে নেন। পাশাপাশি “একজন শিক্ষার্থী, একটি গাছ—একটি সবুজ ভবিষ্যৎ” কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপস্থিত প্রত্যেক অভিভাবকের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেন অতিথিরা।
























