সাতক্ষীরায় শ্যামনগরের মিড-ডে মিলের খাবারবাহী গাড়িতে অগ্রিম উৎপাদন তারিখের বনরুটি, গাড়ি জব্দ
- Update Time : ০৫:২৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / ১২ Time View

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা।।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁকাল চেকপোস্ট এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কার্যক্রমের জন্য বহন করা বনরুটিতে অগ্রিম উৎপাদন তারিখ পাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে খাবারবাহী একটি গাড়ি আটক করা হলে পরে প্রশাসন ও পুলিশ সেটি জব্দ করে থানায় নেয়।
শুক্রবার (০৫ জুন) সন্ধ্যা ৮টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁকাল চেকপোস্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিলের খাবার হিসেবে বিপুল পরিমাণ বনরুটি নিয়ে একটি গাড়ি যাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বনরুটির প্যাকেটের গায়ে উল্লেখিত উৎপাদনের তারিখ দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে তারা গাড়িটি আটকে প্রশাসনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। পরে বনরুটির প্যাকেট পরীক্ষা করে দেখা যায়, গাড়িটি আটক হওয়ার দিন ছিল ০৫ জুন হলেও অধিকাংশ প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ লেখা রয়েছে ‘০৬ জুন ২০২৬’। অর্থাৎ একদিন পরের তারিখ ব্যবহার করে পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বনরুটি ভর্তি একটি গাড়ি পাই। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এগুলো শ্যামনগরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু বনরুটির প্যাকেটে পরদিনের উৎপাদন তারিখ ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও জানান, একটি ক্যাশ মেমো উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৯ হাজার পিস বনরুটির হিসাব পাওয়া গেছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে এবং চালক ও হেলপারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে গাড়ি ও মালামাল থানার হেফাজতে রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বনরুটিগুলো এখনো কোনো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপরই সম্পূর্ণ দায়ভার বর্তাবে।
ইউএনও অর্ণব দত্ত বলেন, “শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



















