ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / ৮৩ Time View
Print

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন,সাতক্ষীরা:
দুর্নীতি, অনিয়ম ও খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার নারী খেলোয়াড়রা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নারী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কয়েকজন পুরুষ খেলোয়াড়ও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

মানববন্ধনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ক্রীড়া সংগঠক ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তি–এর পিতা খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স। এছাড়া বক্তব্য দেন খেলোয়াড় উম্মে ফাতেমা উর্মি, সোহেলী আক্তার শামীমা, সালমা খাতুন, নদী বিশ্বাস ও মেহেদী রাজুসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম, জার্সি ও অনুদান সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় না। প্রকৃত খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে অফিস স্টাফ বা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নামে অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

নারী খেলোয়াড়রা বলেন, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে অনুশীলন করলেও তারা জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, আমরা কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় পর্যায়ে সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে আনছি। অথচ আমাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ এবং একজন সৎ, দক্ষ ও খেলোয়াড়বান্ধব কর্মকর্তার নিয়োগ চাই।

মানববন্ধন শেষে খেলোয়াড়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা জেলা থেকে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তির জন্য ১১৪ জন আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৮ জনের তালিকা জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। পরে জাতীয় কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে ৪৩ জনকে ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, ভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই কিছু খেলোয়াড় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। তবে এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু করার ছিল না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় কমিটিই নিয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

‎হরিপুরে অভিভাবক সমাবেশ ও ‘নজরুল বর্ষ’র পুরস্কার বিতরণ ‎ ‎গোলাম রব্বানী,হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি, ‎ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে অভিভাবক সমাবেশ, আলোচনা সভা এবং চলমান ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‎বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে হরিপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের টিএসসি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।একটাই লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ এই প্রতিপাদ্যে হরিপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দন কর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শামসুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার বাসুদেব রায়। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চিফ ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক) মো. আবু তাহের। ‎ ‎অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আহ্বায়ক মো. আবু তাহের। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও চন্দন কর বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষা নিলে বিশ্বজুড়ে কর্ম মিলে। ‎এই স্লোগানকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি নজরুলের মতো বিদ্রোহী ও মানবিক চেতনা লালন করতে হবে। অভিভাবকদেরও সন্তানের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।’ ‎ ‎এ সময় তিনি নজরুলের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। ‎অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন অভিভাবক শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৩০ জন শিক্ষার্থী এবং কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্য থেকে ৬ জনকে বই পুরস্কার হাতে তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করেন অত্র কলেজের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার বাসুদেব রায়। ‎পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হরিপুর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অটোমোবাইল ট্রেডের ইন্সট্রাক্টর মোছা শারমিন আক্তার রিমা

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

Update Time : ০৮:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
Print

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন,সাতক্ষীরা:
দুর্নীতি, অনিয়ম ও খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার নারী খেলোয়াড়রা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নারী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কয়েকজন পুরুষ খেলোয়াড়ও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

মানববন্ধনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ক্রীড়া সংগঠক ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তি–এর পিতা খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স। এছাড়া বক্তব্য দেন খেলোয়াড় উম্মে ফাতেমা উর্মি, সোহেলী আক্তার শামীমা, সালমা খাতুন, নদী বিশ্বাস ও মেহেদী রাজুসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম, জার্সি ও অনুদান সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় না। প্রকৃত খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে অফিস স্টাফ বা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নামে অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

নারী খেলোয়াড়রা বলেন, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে অনুশীলন করলেও তারা জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, আমরা কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় পর্যায়ে সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে আনছি। অথচ আমাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ এবং একজন সৎ, দক্ষ ও খেলোয়াড়বান্ধব কর্মকর্তার নিয়োগ চাই।

মানববন্ধন শেষে খেলোয়াড়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা জেলা থেকে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তির জন্য ১১৪ জন আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৮ জনের তালিকা জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। পরে জাতীয় কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে ৪৩ জনকে ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, ভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই কিছু খেলোয়াড় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। তবে এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু করার ছিল না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় কমিটিই নিয়েছে।