ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজাপুরে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন।

Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১১ Time View
Print

রাজাপুরে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন।

মোঃ কামরুল হাসান রানা
ঝালকাঠি প্রতিনিধি।

ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের আমতলা বাজার থেকে পাঙ্গাসিয়ার পাড় পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর তারাবুনিয়া কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারাবুনিয়া ওয়াহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এল,জি,ই,ডি) আওতাধীন আমতলা বাজার থেকে পাঙ্গাসিয়ার পাড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার ১০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটির মাত্র ১ কিলোমিটারে ২০০২ সালে ইটের সলিং নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অবশিষ্ট প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় একাকার হয়ে পড়ে। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়।

বক্তারা আরও জানান, সড়কটিতে তিনটি সাঁকো এবং আটটি কালভার্ট রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কালভার্ট বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল রয়েছে ৫ নম্বর কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারাবুনিয়া ওয়াহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ৮০ নম্বর দক্ষিণ তারাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। অথচ দীর্ঘ দুই যুগেও সড়কটির কোনো কার্যকর সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বেহাল সড়কের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও স্থানীয় কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অনেক সময় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

তারা আরও বলেন, রাজাপুর উপজেলার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী কাউখালী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষও রাজাপুর ও ভান্ডারিয়া উপজেলায় যাতায়াতের জন্য এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সড়কটির বেহাল অবস্থা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কাজী, সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাচ্চু, বিএনপির সাবেক ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নুরুল ইসলাম, তারাবুনিয়া ওয়াহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আতিকুর রহমান, ৫ নম্বর কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিল্লাদ হোসেন, স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল কুদ্দুসসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা অবিলম্বে সড়কটি পাকাকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

রাজাপুরে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন।

Update Time : ১২:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
Print

রাজাপুরে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন।

মোঃ কামরুল হাসান রানা
ঝালকাঠি প্রতিনিধি।

ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের আমতলা বাজার থেকে পাঙ্গাসিয়ার পাড় পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর তারাবুনিয়া কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারাবুনিয়া ওয়াহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এল,জি,ই,ডি) আওতাধীন আমতলা বাজার থেকে পাঙ্গাসিয়ার পাড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার ১০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটির মাত্র ১ কিলোমিটারে ২০০২ সালে ইটের সলিং নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অবশিষ্ট প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় একাকার হয়ে পড়ে। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়।

বক্তারা আরও জানান, সড়কটিতে তিনটি সাঁকো এবং আটটি কালভার্ট রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কালভার্ট বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল রয়েছে ৫ নম্বর কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারাবুনিয়া ওয়াহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ৮০ নম্বর দক্ষিণ তারাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। অথচ দীর্ঘ দুই যুগেও সড়কটির কোনো কার্যকর সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বেহাল সড়কের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও স্থানীয় কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অনেক সময় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

তারা আরও বলেন, রাজাপুর উপজেলার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী কাউখালী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষও রাজাপুর ও ভান্ডারিয়া উপজেলায় যাতায়াতের জন্য এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সড়কটির বেহাল অবস্থা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কাজী, সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাচ্চু, বিএনপির সাবেক ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নুরুল ইসলাম, তারাবুনিয়া ওয়াহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আতিকুর রহমান, ৫ নম্বর কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিল্লাদ হোসেন, স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল কুদ্দুসসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা অবিলম্বে সড়কটি পাকাকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।