কালীগঞ্জের ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, উন্নয়ন ও পরিবর্তন চান ভোটাররা
- Update Time : ১০:৫০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / ৩৬ Time View

মোঃ মহাসিন, খুলনা বিভাগীয়, প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে আলোচনা। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এই ইউনিয়নে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী শওকত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর দীর্ঘ সময়ের দায়িত্ব পালন নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকার কারণে ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে তাঁর প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক গাজী মিজানুর রহমান। স্থানীয়দের একটি অংশ তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁর সমর্থকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে জামায়াতের প্রার্থীর অবস্থান শক্তিশালী হলে ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের নির্বাচনী হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, একই রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে সংসদীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয় থাকলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে সমন্বয় সহজ হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে।
এই নির্বাচনী সমীকরণে আরেকটি আলোচিত নাম গোলাম মোস্তফা। তিনি বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি এবং তুলনামূলকভাবে তরুণ প্রার্থী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাঁর সমর্থকদের দাবি, নেতৃত্বের সক্ষমতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগের কারণে তিনি নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন।
তবে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নকে ঘিরে নতুন সমীকরণের কথাও শোনা যাচ্ছে। বিএনপির আরেক নেতা রেজাউল ইসলাম প্রার্থী হলে দলীয় ভোট ভাগাভাগির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। সেক্ষেত্রে গোলাম মোস্তফার নির্বাচনী হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে বর্তমানে ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠে তিনটি সম্ভাব্য শক্তির নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী শওকত হোসেন, জামায়াত-সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থী গাজী মিজানুর রহমান এবং বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী গোলাম মোস্তফা। তবে দলীয় মনোনয়ন, প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করবে।
এদিকে স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ বলছেন, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁরা এবার উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান। তাঁদের প্রত্যাশা, যে প্রার্থীই নির্বাচিত হন না কেন, তিনি যেন ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক সেবার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, দলীয় মনোনয়ন এবং প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। এখন পর্যন্ত মাঠের আলোচনায় পরিবর্তনের প্রত্যাশা, প্রার্থীভিত্তিক জনপ্রিয়তা এবং দলীয় ভোটের হিসাবই হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য নির্বাচনের প্রধান বিষয়।
তবে শেষ পর্যন্ত কে কতটা জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেন এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের নির্বাচনী ফলাফলের সমীকরণ।























