নীলফামারীতে ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা নিয়ে নৈশপ্রহরী উধাও, উৎকণ্ঠায় আমানতকারীরা
- Update Time : ০২:১৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ৬ Time View

মোঃ রিপন ইসলাম কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় গ্রাহকদের টাকা নিয়ে নৈশপ্রহরী ফিরোজ মিয়া উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তার মাধ্যমে লেনদেন করা অর্থের একটি অংশ তারা ফেরত পাচ্ছেন না। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাংকটির গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিরোজ মিয়া গত ২০ জুলাই থেকে কর্মস্থলে আসছেন না। পরে কয়েকজন গ্রাহক তাদের হিসাবে টাকা না থাকার অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকে গেলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এখন পর্যন্ত কয়েকজন গ্রাহককে মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শাখা ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায়। তবে কতজন গ্রাহকের মোট কত টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখনো নির্দিষ্ট কোনো হিসাব প্রকাশ করেনি।
স্থানীয় সূত্র ও গ্রাহকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ফিরোজ মিয়া দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ওই শাখায় নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার সুবাদে তিনি ব্যাংকের অনেক গ্রাহকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন এবং অফিস চলাকালেও বিভিন্ন ব্যাংকিং কাজে তাদের সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক গ্রাহকের দাবি, মেয়াদপূর্তির পর এফডিআরের টাকা তুলতে গেলে ফিরোজ চেকবই নিয়ে কয়েক দিন পর টাকা নেওয়ার কথা বলেন। পরে ব্যাংকে গিয়ে ওই গ্রাহক জানতে পারেন, তার হিসাবে টাকা নেই। বিষয়টি ব্যাংক ব্যবস্থাপককে জানালে টাকা ফেরতের দায়িত্ব নেওয়া হয় বলে তিনি জানান। আরেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, তার বেতনের ২৮ হাজার টাকা ফিরোজ তুলে নিয়েছেন।
ফিরোজের বাবা কছির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার ছেলে কয়েকজন গ্রাহকের টাকা তুলে নিয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজনের ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, সব মিলিয়ে টাকার পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা হতে পারে। তবে এই অঙ্কটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।
শাখা ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায় জানান, ফিরোজ ২০ জুলাই থেকে ব্যাংকে আসা বন্ধ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ঢাকায় যাওয়ার কথা জানানো হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে ব্যাংকের ১০ থেকে ১৫ জন আমানতকারী তাদের হিসাবে টাকা না থাকার বিষয়টি জানালে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে।
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফিরোজ মিয়া ২০ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটির প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি কত এবং এর সঙ্গে ব্যাংকের অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। বর্তমানে গ্রাহকদের মূল দাবি, তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া।




















