তাহিরপুরে ইজারাহীন শান্তিপুর ও মাহারাম নদী থেকে ৫০ কোটি টাকার বালু লুট,
- Update Time : ০৭:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭ Time View

সুনামগঞ্জ বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুই শাখা—মাহারাম ও শান্তিপুর নদী থেকে গত ১১ মাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
ইজারাবিহীন এই নদী দুটি থেকে প্রতিনিয়ত বালু তোলায় সরকার একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে চরম হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারা না থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী চক্র দিন-রাত বেপরোয়াভাবে বালু তুলে আশপাশের এলাকায় স্তূপ করে রাখছে। এতে আশপাশের বসতবাড়িগুলো মারাত্মক ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের এই নদী দুটি থেকে বালু তোলার মহোৎসব চলছে। সংগৃহীত বালু ট্রলারে করে নদীপথে মধ্যনগর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে।
প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে কিছু নৌকা জব্দ ও শ্রমিক আটক করলেও মূল কারবারিরা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। গত দুই মাস ধরে বড় ধরনের কোনো অভিযান না থাকায় এই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এমনকি শান্তিপুর নদী থেকে তোলা অবৈধ বালু এনে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনেও স্তূপ করে রাখা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে গত শনিবার সকালে ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক অভিযান চালিয়ে সেই বালু জব্দ করেন।
তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ ও যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া জানান, নদী দুটি থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা, কমিটি গঠন এবং বাঁশের বেড়া দেওয়া হলেও কোনোভাবেই প্রভাবশালী চক্রটিকে থামানো যাচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এবিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বালু লুটের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























