কারাবন্দীর অসুস্থতার ভুয়া খবর দিয়ে প্রতারণা, পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
- Update Time : ০৬:২২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৯ Time View

মোঃ মহাসিন, খুলনা বিভাগীয়, প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেল সুপার ও চিকিৎসক পরিচয়ে একটি প্রতারক চক্র কারাবন্দি এক ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে চিকিৎসার কথা বলে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী কারাবন্দি শুকুর আলী, তিনি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মহেশকুড় গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই রতনপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মিলন কারাবন্দি শুকুর আলীর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের জানান, তার স্বামী কারাগারে স্ট্রোক করেছেন। তিনি একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন এবং দাবি করেন, সেখানে জেল সুপার ও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা যাবে।
পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে চিকিৎসক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি জানান, শুকুর আলীর অবস্থা গুরুতর। দ্রুত চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠাতে হবে, অন্যথায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হবে, বাকি অর্থ পরিবারের পক্ষ থেকে দিতে হবে।
এ খবর শুনে দুবাই প্রবাসী এক স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, গ্রাম পুলিশ মিলনের মাধ্যমে ০১৭০৫৮৭০৮৩৭ নম্বরে তিন দফায় মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাঠানোর পর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে পরিবারের সদস্যরা সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে গিয়ে শুকুর আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা জানতে পারেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং কখনো অসুস্থ হননি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষও তাদের জানিয়েছে, চিকিৎসার খরচ চেয়ে কারাগার থেকে কোনো ফোন করা হয়নি।
এ ঘটনায় গ্রাম পুলিশ মিলনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গ্রাম পুলিশ মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কালীগঞ্জ থানার এসআই হেকমত পরিচয়ে একজন আমাকে ফোন করে বলেন, দ্রুত শুকুর আলীর বাড়িতে মোবাইলটি নিয়ে যাও, সে জেলখানায় স্ট্রোক করেছে। আমি বিষয়টি সত্য মনে করে দ্রুত শুকুর আলীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানাই।”
ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
























