আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ফের দুর্নীতির অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক
- Update Time : ১০:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭ Time View

আবু তালেব, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্টতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি লিখেছেন,
“অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।”
টেন্ডারে কমিশনের অভিযোগ
দুদকে দাখিল করা অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন হয়েছে।
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের দাবি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে ১০ কোটি টাকা, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ
দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, কথিত দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে পাচার করা হয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে ভিলা কেনা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে কথিত একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে দুদক
তবে দুদকে জমা দেওয়া এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং কথিত আর্থিক লেনদেন ও অর্থপাচারের তথ্য যাচাই করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ। পরে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন। পরবর্তীতে সরকারের দায়িত্ব ছেড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন তিনি। বর্তমানে দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

























