ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাল শাপলার রাজ্যে প্রকৃতির অপূর্ব মায়াজালে

আশরাফ উদ্দিন
  • Update Time : ১২:১৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩৩ Time View
Print

লাল শাপলার রাজ্যে প্রকৃতির অপূর্ব মায়াজালে
উজিরপুর-আগৈলঝাড়ার বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে শাপলার সমারোহ

মো:আশরাফ বরিশাল ক্রাইম রিপোর্টার: টলটলে পানির ওপর সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা লাল শাপলা, তার মাঝে ভেসে চলা ছোট ছোট নৌকা আর ভোরের আলোয় পাখির কলকাকলি। প্রকৃতি যেন আপন মনে রং-তুলির আঁচড়ে সাজিয়েছে বিস্তীর্ণ জলাভূমি।

সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। বরিশালের উজিরপুর ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমির এই শাপলার বিল এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
বরিশাল শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রাম এবং আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা ও খাজুরিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ জলাভূমি নিয়ে গড়ে উঠেছে এই শাপলার বিল। এর মধ্যে সাতলার বিলটি ‘লাল শাপলার বিল’ নামেই বেশি পরিচিত।
প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এ বিলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ফুটে ওঠে অসংখ্য লাল শাপলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো দর্শনার্থী। ছুটির দিন ছাড়াও সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে সাতলা-বাগধা সড়ক ও আশপাশের এলাকা।
ভোরের আলোয় অন্যরকম সৌন্দর্য
লাল শাপলার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে ভোরে। সূর্য ওঠার আগেই বিলে পৌঁছালে চোখে পড়বে প্রকৃতির সৌন্দর্য। ভোরের আলো ফুটতেই পানির ওপর মাথা উঁচু করে থাকা লাল শাপলাগুলো যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিলের শান্ত পানিতে নৌকা নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে দেখা যায় শাপলার বিস্তীর্ণ সমারোহ। সঙ্গে যোগ হয় বক, ডাহুক, পানকৌড়ি, মাছরাঙা, ফিঙে, শালিক, দোয়েল, চড়ুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলি। প্রকৃতির এই আবহ মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেয় শহুরে জীবনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি।
প্রায় ১০ হাজার একরেরও বেশি জলাভূমিজুড়ে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত লাল শাপলার আধিক্য দেখা যায়। এ সময়টিই বিল ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে জানান স্থানীয়রা।
শাপলার সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখতে বিলের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ছোট-বড় নৌকা। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, প্রায় ২০টির বেশি স্পটে ৫ শতাধিক নৌকা পর্যটকদের নিয়ে বিলে ঘুরে বেড়ায়।
নৌকায় করে বিলের ভেতরে ঘুরতে সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। তবে নৌকায় ওঠার আগে মাঝির সঙ্গে দরদাম করে নেওয়ার পরামর্শ দেন স্থানীয়রা।
নৌকার ছইয়ের নিচে বসে কিংবা খোলা নৌকায় করে শাপলার সারির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুভূতি পর্যটকদের কাছে হয়ে ওঠে বিশেষ আকর্ষণ।
ঢাকা থেকে লাল শাপলার বিলে যেতে চাইলে সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালীসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে বরিশালগামী বাসে যাওয়া যায়। এসি ও নন-এসি বাসের ভাড়া পরিবহনভেদে প্রায় ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
এ ছাড়া ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগেও বরিশালে যাওয়া যায়। লঞ্চের ডেকের ভাড়া প্রায় ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়। কেবিনের ভাড়া প্রকারভেদে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বরিশালে পৌঁছে নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড অথবা লঞ্চঘাট থেকে সিএনজি, মাহিন্দ্রা, মোটরসাইকেল কিংবা রেন্ট-এ-কারে সাতলা-বাগধার শাপলার বিলে যাওয়া যায়। যানবাহনের ধরন ও সময় অনুযায়ী বরিশাল শহর থেকে যাতায়াতে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। থাকার জন্য
বরিশাল শহরে রয়েছে বিভিন্ন মানের অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল ও সরকারি-বেসরকারি রেস্ট হাউস। এসব জায়গায় প্রায় ৫০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কক্ষ পাওয়া যায়।
প্রতিবছর পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাপলার বিলকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। নৌকার মাঝি, ছোট ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মীসহ অনেকেই পর্যটন মৌসুমে বাড়তি আয় করছেন। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভোরের আলোয় লাল শাপলার এই রাজ্যে একবার গেলে প্রকৃতির সেই মায়াবী দৃশ্য সহজে ভুলতে পাবেন না আপনিও।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

লাল শাপলার রাজ্যে প্রকৃতির অপূর্ব মায়াজালে

Update Time : ১২:১৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

লাল শাপলার রাজ্যে প্রকৃতির অপূর্ব মায়াজালে
উজিরপুর-আগৈলঝাড়ার বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে শাপলার সমারোহ

মো:আশরাফ বরিশাল ক্রাইম রিপোর্টার: টলটলে পানির ওপর সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা লাল শাপলা, তার মাঝে ভেসে চলা ছোট ছোট নৌকা আর ভোরের আলোয় পাখির কলকাকলি। প্রকৃতি যেন আপন মনে রং-তুলির আঁচড়ে সাজিয়েছে বিস্তীর্ণ জলাভূমি।

সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। বরিশালের উজিরপুর ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমির এই শাপলার বিল এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
বরিশাল শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রাম এবং আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা ও খাজুরিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ জলাভূমি নিয়ে গড়ে উঠেছে এই শাপলার বিল। এর মধ্যে সাতলার বিলটি ‘লাল শাপলার বিল’ নামেই বেশি পরিচিত।
প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এ বিলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ফুটে ওঠে অসংখ্য লাল শাপলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো দর্শনার্থী। ছুটির দিন ছাড়াও সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে সাতলা-বাগধা সড়ক ও আশপাশের এলাকা।
ভোরের আলোয় অন্যরকম সৌন্দর্য
লাল শাপলার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে ভোরে। সূর্য ওঠার আগেই বিলে পৌঁছালে চোখে পড়বে প্রকৃতির সৌন্দর্য। ভোরের আলো ফুটতেই পানির ওপর মাথা উঁচু করে থাকা লাল শাপলাগুলো যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিলের শান্ত পানিতে নৌকা নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে দেখা যায় শাপলার বিস্তীর্ণ সমারোহ। সঙ্গে যোগ হয় বক, ডাহুক, পানকৌড়ি, মাছরাঙা, ফিঙে, শালিক, দোয়েল, চড়ুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলি। প্রকৃতির এই আবহ মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেয় শহুরে জীবনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি।
প্রায় ১০ হাজার একরেরও বেশি জলাভূমিজুড়ে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত লাল শাপলার আধিক্য দেখা যায়। এ সময়টিই বিল ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে জানান স্থানীয়রা।
শাপলার সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখতে বিলের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ছোট-বড় নৌকা। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, প্রায় ২০টির বেশি স্পটে ৫ শতাধিক নৌকা পর্যটকদের নিয়ে বিলে ঘুরে বেড়ায়।
নৌকায় করে বিলের ভেতরে ঘুরতে সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। তবে নৌকায় ওঠার আগে মাঝির সঙ্গে দরদাম করে নেওয়ার পরামর্শ দেন স্থানীয়রা।
নৌকার ছইয়ের নিচে বসে কিংবা খোলা নৌকায় করে শাপলার সারির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুভূতি পর্যটকদের কাছে হয়ে ওঠে বিশেষ আকর্ষণ।
ঢাকা থেকে লাল শাপলার বিলে যেতে চাইলে সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালীসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে বরিশালগামী বাসে যাওয়া যায়। এসি ও নন-এসি বাসের ভাড়া পরিবহনভেদে প্রায় ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
এ ছাড়া ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগেও বরিশালে যাওয়া যায়। লঞ্চের ডেকের ভাড়া প্রায় ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়। কেবিনের ভাড়া প্রকারভেদে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বরিশালে পৌঁছে নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড অথবা লঞ্চঘাট থেকে সিএনজি, মাহিন্দ্রা, মোটরসাইকেল কিংবা রেন্ট-এ-কারে সাতলা-বাগধার শাপলার বিলে যাওয়া যায়। যানবাহনের ধরন ও সময় অনুযায়ী বরিশাল শহর থেকে যাতায়াতে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। থাকার জন্য
বরিশাল শহরে রয়েছে বিভিন্ন মানের অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল ও সরকারি-বেসরকারি রেস্ট হাউস। এসব জায়গায় প্রায় ৫০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কক্ষ পাওয়া যায়।
প্রতিবছর পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাপলার বিলকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। নৌকার মাঝি, ছোট ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মীসহ অনেকেই পর্যটন মৌসুমে বাড়তি আয় করছেন। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভোরের আলোয় লাল শাপলার এই রাজ্যে একবার গেলে প্রকৃতির সেই মায়াবী দৃশ্য সহজে ভুলতে পাবেন না আপনিও।