কালিগঞ্জের রতনপুর ইউপি নির্বাচনে প্রতিশ্রুতির আগে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় তুঙ্গে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ ফজলুর রহমান।
- Update Time : ১১:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫ Time View

মোঃ মহাসিন, খুলনা বিভাগীয়,প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় তুঙ্গে রয়েছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ ফজলুর রহমান।
প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকদের দাবি, নির্বাচনের আগে থেকেই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ লাঘব, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
ফজলুর রহমান রতনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জি.এম.আব্দুল ওয়াহেদ সাহেবের সুযোগ্য বড় পুত্র। তাঁর বাবা রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই পারিবারিকভাবে মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ও জনসেবার ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ফজলুর রহমান বলে জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকেরা।
রাস্তা সংস্কারে একাধিক উদ্যোগ – প্রার্থীর পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে নলিতের মোড় থেকে গাজীপাড়া হয়ে শিবপুর মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা দুইবার সংস্কার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মলেঙ্গায় করিমের দোকান থেকে শিবপুর ওয়াপদা সড়ক পর্যন্ত এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দিপুরে নাসিরের বাড়ি থেকে বাল্যপাড়া কাঠের ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কথা জানানো হয়েছে।
মলেঙ্গা-বাল্যপাড়া কাঠের ব্রিজের দুই পাশে নতুন ইট দিয়ে কাঁচা রাস্তার উন্নয়ন, ব্রিজটি পরপর দুই বছর মেরামত এবং শিবপুর মসজিদে যাওয়ার রাস্তা ভেকু মেশিন দিয়ে সংস্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিবপুর এলাকায় প্রায় ৩ হাজার নতুন ইট দিয়ে ওয়াপদা সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন এবং পুরোনো ইট পুনঃস্থাপনের দাবি করা হয়েছে। নৈহাটি পিচ সড়ক থেকে নৈহাটি মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
রতনপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ডাঃ পিনাক বাবুর বাড়ির রাস্তা সংস্কারের পাশাপাশি নতুন ইট দিয়ে প্রায় ৫০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করে দুদলি সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে গড়ুইমহল শেখপাড়া, কাছারীপুকুর সংলগ্ন রাস্তা এবং খড়িতলা পূর্বপাড়ার রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
ব্রিজ ও জনপথ রক্ষায় উদ্যোগ – চুনাখালী ব্রিজের দুই পাশের ভাঙন ঠেকাতে বালুর বস্তা দিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা, খালপাড় থেকে বদরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা দুইবার সংস্কার এবং বাগমারি ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফাটল দেখা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক মেরামতের ব্যবস্থা করার কথাও প্রার্থীর কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া চুনাখালী মসজিদ থেকে দাদা ভাই ক্লাব পর্যন্ত রাস্তা, ডাঃ মনি মোহনের বাড়ির রাস্তা এবং দওনগর সর্দারপাড়া সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
রাজবাড়ী কলেজ রোড থেকে চুনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা এবং কাটুনিয়ার ভেতরের কয়েকটি রাস্তা নতুন ইট ও ছোট বালু দিয়ে সংস্কারের কথাও জানানো হয়েছে। শাহিদের বাড়ি থেকে পালতকাটি সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও রয়েছে।
জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দওনগর, কাটুনিয়া, রাজবাড়ী, কদমতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির জন্য টিউবওয়েল দেওয়ার দাবি করেছেন প্রার্থীর পক্ষ।
কদমতলা বাজারের নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথাও জানানো হয়েছে। বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নজরদারির আওতায় এনে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বাড়ানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া কদমতলা বাজার জামে মসজিদের পুকুরঘাট সংস্কার, দত্তনগর পানির ফিল্টার মেরামত এবং পীরগাজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের বসার জন্য ছাউনি স্থাপনের কথাও জানানো হয়েছে।
দরিদ্র ও অসহায় শিশুদের বই কিনে দেওয়া, পড়াশোনায় আর্থিক সহায়তা, দুস্থ মানুষের জন্য সাইকেল কিনে দেওয়া এবং অসহায় ব্যক্তিদের চিকিৎসায় নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ – মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এলাকার যুব ও তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সরঞ্জাম বিতরণের কথাও জানিয়েছেন প্রার্থীর সমর্থকেরা।
এ ছাড়া তাঁর মেজ চাচার আর্থিক সহায়তায় এলাকায় বহু হতদরিদ্র পরিবারের জন্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মসজিদ, ঈদগাহ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা – প্রার্থীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিভিন্ন মসজিদ, ঈদগাহ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জেলা পরিষদের অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এলাকার কয়েকটি রাস্তার উন্নয়ন বাজেট তৈরিতেও ভূমিকা রাখার দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তাঁদের অতীত ও চলমান কর্মকাণ্ডও ভোটারদের আলোচনায় আসে। সেই প্রেক্ষাপটে ফজলুর রহমানের পক্ষ থেকে তাঁর বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের তালিকা সামনে আনা হয়েছে।
নির্বাচিত হলে আরও কিছু উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি কথা জানান মোঃ ফজলুর রহমান, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর করবেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সোলার লাইট স্থাপন, বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দিষ্ট স্থানে ড্রামের ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার কথাও তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।























