ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বালু উত্তোলন বন্ধের অভিযানে গিয়ে এসিল্যান্ডকে ধাক্কা দিয়ে অবরুদ্ধ করল বালুদস্যুরা

Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩১ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক মোঃ রিপন ইসলাম কিশোরগঞ্জ নীলফামারী

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে এসিল্যান্ডকে ধাক্কা দিয়ে অবরুদ্ধ করল বালুদস্যুরা
​নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ও চাড়ালকাঁটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জাহান তন্বী। এ সময় একটি বালুভর্তি ট্রলি আটক করলে বালুদস্যু সিন্ডিকেটের শতাধিক নারী-পুরুষ ওই কর্মকর্তাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের পুলিশ সদস্য ও অন্যান্যদের প্রায় ৩০ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
​বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জাহান তন্বী।
​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বালুদস্যুরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কিশোরগঞ্জের চাড়ালকাঁটা নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও সরকারি বালুর স্তূপ থেকে অবাধে বালু লুট করা হচ্ছে। এসব বালু পাচার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত টহল দিয়ে আসছে।
​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের ময়নাকুড়ি বাজারের পূর্ব দিকে সিনহা কোম্পানি সংলগ্ন ডাংগাপাড়া গ্রামে চাড়ালকাঁটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এ সময় বালুভর্তি তিনটি ট্রলি আটকের চেষ্টা করা হলে দুটি ট্রলির চালক দ্রুত পালিয়ে যায়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জাহান তন্বী অপর ট্রলিটি আটকের জন্য সামনে দাঁড়ালে বালুদস্যুরা তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পুলিশ ট্রলিটি আটক করে।
​ট্রলি আটকের পরপরই বালুদস্যু সিন্ডিকেটের শতাধিক নারী-পুরুষ সেখানে এসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জাহান তন্বী, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার ও অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের আটক করে রাখেন। তারা সরকারি গাড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং বালুর ট্রলি ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে যেতে দেবেন না বলে জানান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে এসিল্যান্ডসহ সকলকে উদ্ধার করে। এ সময় আটক ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসা হয়।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই এলাকার নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু লুট করে আসছিলেন বাহাগিলী ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে পারভেজ ও একই গ্রামের জাহেদুল ইসলামের ছেলে স্বপন। মূলত তারাই এই বালু লুট চক্রের মূল হোতা।
​সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জাহান তন্বী জানান, বালু পাচারের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনটি বালুভর্তি ট্রলি দেখতে পাই। দুটি ট্রলি দ্রুত পালিয়ে গেলেও অপরটি আটকের জন্য সামনে গেলে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে বালু সিন্ডিকেটের শতাধিক নারী-পুরুষ আমাদের সরকারি গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে তারা গাড়ির সামনে বসে ও শুয়ে পড়েন এবং বালুর ট্রলি ছেড়ে না দিলে গাড়ি ছাড়বেন না বলে হুমকি দেন। এভাবে প্রায় ৩০ মিনিট আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবগত করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে এবং ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসে।
​কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর গফুর জানান, খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পেশকার ও অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্যদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং আটক ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

​নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বালু উত্তোলন বন্ধের অভিযানে গিয়ে এসিল্যান্ডকে ধাক্কা দিয়ে অবরুদ্ধ করল বালুদস্যুরা

Update Time : ১২:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক মোঃ রিপন ইসলাম কিশোরগঞ্জ নীলফামারী

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে এসিল্যান্ডকে ধাক্কা দিয়ে অবরুদ্ধ করল বালুদস্যুরা
​নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ও চাড়ালকাঁটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জাহান তন্বী। এ সময় একটি বালুভর্তি ট্রলি আটক করলে বালুদস্যু সিন্ডিকেটের শতাধিক নারী-পুরুষ ওই কর্মকর্তাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের পুলিশ সদস্য ও অন্যান্যদের প্রায় ৩০ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
​বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জাহান তন্বী।
​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বালুদস্যুরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কিশোরগঞ্জের চাড়ালকাঁটা নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও সরকারি বালুর স্তূপ থেকে অবাধে বালু লুট করা হচ্ছে। এসব বালু পাচার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত টহল দিয়ে আসছে।
​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের ময়নাকুড়ি বাজারের পূর্ব দিকে সিনহা কোম্পানি সংলগ্ন ডাংগাপাড়া গ্রামে চাড়ালকাঁটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এ সময় বালুভর্তি তিনটি ট্রলি আটকের চেষ্টা করা হলে দুটি ট্রলির চালক দ্রুত পালিয়ে যায়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জাহান তন্বী অপর ট্রলিটি আটকের জন্য সামনে দাঁড়ালে বালুদস্যুরা তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পুলিশ ট্রলিটি আটক করে।
​ট্রলি আটকের পরপরই বালুদস্যু সিন্ডিকেটের শতাধিক নারী-পুরুষ সেখানে এসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জাহান তন্বী, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার ও অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের আটক করে রাখেন। তারা সরকারি গাড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং বালুর ট্রলি ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে যেতে দেবেন না বলে জানান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে এসিল্যান্ডসহ সকলকে উদ্ধার করে। এ সময় আটক ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসা হয়।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই এলাকার নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু লুট করে আসছিলেন বাহাগিলী ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে পারভেজ ও একই গ্রামের জাহেদুল ইসলামের ছেলে স্বপন। মূলত তারাই এই বালু লুট চক্রের মূল হোতা।
​সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জাহান তন্বী জানান, বালু পাচারের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনটি বালুভর্তি ট্রলি দেখতে পাই। দুটি ট্রলি দ্রুত পালিয়ে গেলেও অপরটি আটকের জন্য সামনে গেলে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে বালু সিন্ডিকেটের শতাধিক নারী-পুরুষ আমাদের সরকারি গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে তারা গাড়ির সামনে বসে ও শুয়ে পড়েন এবং বালুর ট্রলি ছেড়ে না দিলে গাড়ি ছাড়বেন না বলে হুমকি দেন। এভাবে প্রায় ৩০ মিনিট আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবগত করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে এবং ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসে।
​কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর গফুর জানান, খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পেশকার ও অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্যদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং আটক ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।