ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় বল্লী ইউনিয়নে জমিজমা বিরোধের জেরে নারীসহ পরিবারের ওপর হামলায় থানায় লিখিত অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬ Time View
Print

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোছাঃ আফরিন সুলতানা (৪০) নামে এক নারী ছয়জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আফরিন সুলতানা তার স্বামী এসএম বিল্লাল হাসানের পৈত্রিক ভিটায় বসতবাড়ি নির্মাণ করে বল্লী এলাকায় বসবাস করে আসছেন। প্রতিবেশী ইকবাল হোসেন রাজুসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা তাদের রেকর্ডীয় জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এরই মধ্যে তাদের জমির প্রায় দুই ফুট জায়গা দখল করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কোনো সালিশ-মীমাংসা মানেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সার্ভেয়ার দিয়ে দুই দফায় জমি মাপজরিপ করা হলেও সেটিও অভিযুক্তরা মেনে নেননি বলে দাবি করেছেন আফরিন সুলতানা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ১৬ আগস্ট ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন রাজু আফরিন সুলতানার জমির ভেতরে থাকা গাছগাছালি কাটতে যান। এতে তিনি বাধা দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ইকবাল হোসেন রাজু অন্য অভিযুক্তদের ডেকে আনেন। পরে তারা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আফরিন সুলতানার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আফরিন সুলতানার অভিযোগ, হামলার সময় তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার হাত, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও ছেলা জখম হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ভাসুরকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে তার বড় জা এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে একজন অভিযুক্ত আফরিন সুলতানাকে জোরপূর্বক ধরে রাখেন এবং অপর একজন হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এতে তার ভাসুরের মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এ সময় কয়েকজন অভিযুক্ত আফরিন সুলতানার কাপড়চোপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন এবং একপর্যায়ে তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন টান দিয়ে ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে খুন-জখম করার হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকে আফরিন সুলতানা ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ইকবাল হোসেন রাজু, জাহিদ হাসান বিপুল, লিপি খাতুন, ফরিদা খাতুন, রেখা খাতুন ও বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সাতক্ষীরায় বল্লী ইউনিয়নে জমিজমা বিরোধের জেরে নারীসহ পরিবারের ওপর হামলায় থানায় লিখিত অভিযোগ

Update Time : ০৮:২১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
Print

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোছাঃ আফরিন সুলতানা (৪০) নামে এক নারী ছয়জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আফরিন সুলতানা তার স্বামী এসএম বিল্লাল হাসানের পৈত্রিক ভিটায় বসতবাড়ি নির্মাণ করে বল্লী এলাকায় বসবাস করে আসছেন। প্রতিবেশী ইকবাল হোসেন রাজুসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা তাদের রেকর্ডীয় জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এরই মধ্যে তাদের জমির প্রায় দুই ফুট জায়গা দখল করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কোনো সালিশ-মীমাংসা মানেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সার্ভেয়ার দিয়ে দুই দফায় জমি মাপজরিপ করা হলেও সেটিও অভিযুক্তরা মেনে নেননি বলে দাবি করেছেন আফরিন সুলতানা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ১৬ আগস্ট ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন রাজু আফরিন সুলতানার জমির ভেতরে থাকা গাছগাছালি কাটতে যান। এতে তিনি বাধা দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ইকবাল হোসেন রাজু অন্য অভিযুক্তদের ডেকে আনেন। পরে তারা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আফরিন সুলতানার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আফরিন সুলতানার অভিযোগ, হামলার সময় তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার হাত, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও ছেলা জখম হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ভাসুরকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে তার বড় জা এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে একজন অভিযুক্ত আফরিন সুলতানাকে জোরপূর্বক ধরে রাখেন এবং অপর একজন হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এতে তার ভাসুরের মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এ সময় কয়েকজন অভিযুক্ত আফরিন সুলতানার কাপড়চোপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন এবং একপর্যায়ে তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন টান দিয়ে ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে খুন-জখম করার হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকে আফরিন সুলতানা ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ইকবাল হোসেন রাজু, জাহিদ হাসান বিপুল, লিপি খাতুন, ফরিদা খাতুন, রেখা খাতুন ও বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।