ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ সম্মেলনের পর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, জমি নিয়ে বিরোধে নতুন মোড়

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২২ Time View
Print

সেলিম চৌধুরী
জেলা প্রতিনিধি,রংপুরঃ

রংপুরে পৈত্রিক ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনের কয়েকদিন পর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মামলার তফসিলভুক্ত জমিতে বেদখল, বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা জমির প্রকৃতি পরিবর্তন থেকে সংশ্লিষ্ট বিবাদীকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে রংপুরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে দায়ের করা মোকদ্দমা নং-১০২/২০২৬-এর শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদেশে আগামী ধার্য তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের আদেশে মামলার ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে বাদীপক্ষকে বেদখল করা, নালিশি সম্পত্তি বিক্রি, আকার-আকৃতি পরিবর্তন কিংবা যেকোনো ধরনের হস্তান্তর থেকে ১ নম্বর বিবাদী-প্রতিপক্ষকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার ‘খ’ তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে—জেলা রংপুর, থানা সদর, মৌজা উত্তম, জে.এল. নং-৫২, সি.এস. খতিয়ান নং-১২৪৫, এস.এ. খতিয়ান নং-১২৫৩, আর.এস. খতিয়ান নং-৫০/১, সাবেক দাগ নং-৪২১৯ এবং হাল দাগ নং-৭২৫৮। তফসিলভুক্ত জমির পরিমাণ ৫৩ একরের মধ্যে ৪৭ একর বলে উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জুন রংপুর মহানগরের হাজিরহাট মেট্রো থানার হুসনা বাজার এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. ছহির উদ্দিন ওরফে কান্দুরা।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে গোলাম সারোয়ার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে একটি বায়নাপত্র সম্পাদন করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমির পুরো মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। এরপরও জমি দখলের চেষ্টা এবং অন্যত্র বিক্রির পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১০ জুন তাদের বসতভিটা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের কাছে জমির বৈধ দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের অবসান এবং পরিবারের নিরাপত্তার জন্য তারা পুলিশ প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে আদালতের আদেশের বিষয়ে উপস্থিত এসআই জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমিতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

আদালতের আদেশ পাওয়ার পর মো. ছহির উদ্দিন ওরফে কান্দুরা বলেন, “ওরা প্রভাবশালী। যখন-তখন আমাদের ওপর অত্যাচার করে। আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, আদালতের মাধ্যমে সঠিক বিচার পাব।”
তবে জমি নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ, হামলা, মামলা ও হয়রানির বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ফলে আপাতত বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে নতুন করে দখল, বিক্রি বা হস্তান্তরের উদ্যোগ বন্ধ রয়েছে। আগামী ২৪ আগস্ট মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখে বিষয়টি নিয়ে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন উভয় পক্ষ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সংবাদ সম্মেলনের পর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, জমি নিয়ে বিরোধে নতুন মোড়

Update Time : ১১:৫৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Print

সেলিম চৌধুরী
জেলা প্রতিনিধি,রংপুরঃ

রংপুরে পৈত্রিক ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনের কয়েকদিন পর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মামলার তফসিলভুক্ত জমিতে বেদখল, বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা জমির প্রকৃতি পরিবর্তন থেকে সংশ্লিষ্ট বিবাদীকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে রংপুরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে দায়ের করা মোকদ্দমা নং-১০২/২০২৬-এর শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদেশে আগামী ধার্য তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের আদেশে মামলার ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে বাদীপক্ষকে বেদখল করা, নালিশি সম্পত্তি বিক্রি, আকার-আকৃতি পরিবর্তন কিংবা যেকোনো ধরনের হস্তান্তর থেকে ১ নম্বর বিবাদী-প্রতিপক্ষকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার ‘খ’ তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে—জেলা রংপুর, থানা সদর, মৌজা উত্তম, জে.এল. নং-৫২, সি.এস. খতিয়ান নং-১২৪৫, এস.এ. খতিয়ান নং-১২৫৩, আর.এস. খতিয়ান নং-৫০/১, সাবেক দাগ নং-৪২১৯ এবং হাল দাগ নং-৭২৫৮। তফসিলভুক্ত জমির পরিমাণ ৫৩ একরের মধ্যে ৪৭ একর বলে উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জুন রংপুর মহানগরের হাজিরহাট মেট্রো থানার হুসনা বাজার এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. ছহির উদ্দিন ওরফে কান্দুরা।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে গোলাম সারোয়ার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে একটি বায়নাপত্র সম্পাদন করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমির পুরো মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। এরপরও জমি দখলের চেষ্টা এবং অন্যত্র বিক্রির পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১০ জুন তাদের বসতভিটা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের কাছে জমির বৈধ দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের অবসান এবং পরিবারের নিরাপত্তার জন্য তারা পুলিশ প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে আদালতের আদেশের বিষয়ে উপস্থিত এসআই জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমিতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

আদালতের আদেশ পাওয়ার পর মো. ছহির উদ্দিন ওরফে কান্দুরা বলেন, “ওরা প্রভাবশালী। যখন-তখন আমাদের ওপর অত্যাচার করে। আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, আদালতের মাধ্যমে সঠিক বিচার পাব।”
তবে জমি নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ, হামলা, মামলা ও হয়রানির বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ফলে আপাতত বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে নতুন করে দখল, বিক্রি বা হস্তান্তরের উদ্যোগ বন্ধ রয়েছে। আগামী ২৪ আগস্ট মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখে বিষয়টি নিয়ে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন উভয় পক্ষ।