ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাটারিচালিত রিকশায় শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ: নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫ Time View
Print

​আবু তালেব বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের নগর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও গতি প্রায়শই সড়কে যানজট এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ই-রিকশা চলাচলকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভা আয়োজন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

​বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহিদুল হাসান-এর সভাপতিত্বে এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বোতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

​বৈঠকে উঠে আসা মূল সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবনা:
• ​নিবন্ধন ও চালকদের তদারকি: ই-রিকশার সঠিক সংখ্যা ও তথ্য সংরক্ষণে একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যানের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালকদের জবাবদিহিতা তৈরি হবে।
• ​নির্দিষ্ট রুট ও পার্কিং ব্যবস্থা: যত্রতত্র পার্কিং ও যানজট কমাতে এলাকা ও সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।
• ​গতি ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ: যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত সড়ক তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
• ​প্রশাসনের যৌথ তদারকি: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের কথা বলা হয়।

​সভায় উপস্থিত বক্তারা স্বীকার করেন যে, সাধারণ মানুষের সস্তা ও সহজ যাতায়াতের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই এটিকে হুট করে বন্ধ না করে, স্থানীয় বাস্তবতা ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনা করে একটি কার্যকর নিয়মনীতি বা ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় আনা প্রয়োজন।
​”ই-রিকশাকে বাদ দিয়ে নয়, বরং একে সুশৃঙ্খল ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এনে জনবান্ধব করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

সভায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন।
​সব মিলিয়ে, অনিয়ন্ত্রিত ই-রিকশা খাতটিকে নিয়মের মধ্যে এনে একদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ রাখার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ব্যাটারিচালিত রিকশায় শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ: নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা

Update Time : ১১:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Print

​আবু তালেব বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের নগর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও গতি প্রায়শই সড়কে যানজট এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ই-রিকশা চলাচলকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভা আয়োজন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

​বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহিদুল হাসান-এর সভাপতিত্বে এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বোতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

​বৈঠকে উঠে আসা মূল সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবনা:
• ​নিবন্ধন ও চালকদের তদারকি: ই-রিকশার সঠিক সংখ্যা ও তথ্য সংরক্ষণে একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যানের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালকদের জবাবদিহিতা তৈরি হবে।
• ​নির্দিষ্ট রুট ও পার্কিং ব্যবস্থা: যত্রতত্র পার্কিং ও যানজট কমাতে এলাকা ও সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।
• ​গতি ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ: যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত সড়ক তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
• ​প্রশাসনের যৌথ তদারকি: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের কথা বলা হয়।

​সভায় উপস্থিত বক্তারা স্বীকার করেন যে, সাধারণ মানুষের সস্তা ও সহজ যাতায়াতের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই এটিকে হুট করে বন্ধ না করে, স্থানীয় বাস্তবতা ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনা করে একটি কার্যকর নিয়মনীতি বা ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় আনা প্রয়োজন।
​”ই-রিকশাকে বাদ দিয়ে নয়, বরং একে সুশৃঙ্খল ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এনে জনবান্ধব করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

সভায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন।
​সব মিলিয়ে, অনিয়ন্ত্রিত ই-রিকশা খাতটিকে নিয়মের মধ্যে এনে একদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ রাখার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন।