ব্যাটারিচালিত রিকশায় শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ: নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা
- Update Time : ১১:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫ Time View

আবু তালেব বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের নগর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও গতি প্রায়শই সড়কে যানজট এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ই-রিকশা চলাচলকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভা আয়োজন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহিদুল হাসান-এর সভাপতিত্বে এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বোতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে উঠে আসা মূল সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবনা:
• নিবন্ধন ও চালকদের তদারকি: ই-রিকশার সঠিক সংখ্যা ও তথ্য সংরক্ষণে একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যানের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালকদের জবাবদিহিতা তৈরি হবে।
• নির্দিষ্ট রুট ও পার্কিং ব্যবস্থা: যত্রতত্র পার্কিং ও যানজট কমাতে এলাকা ও সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।
• গতি ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ: যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত সড়ক তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
• প্রশাসনের যৌথ তদারকি: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের কথা বলা হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা স্বীকার করেন যে, সাধারণ মানুষের সস্তা ও সহজ যাতায়াতের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই এটিকে হুট করে বন্ধ না করে, স্থানীয় বাস্তবতা ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনা করে একটি কার্যকর নিয়মনীতি বা ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় আনা প্রয়োজন।
”ই-রিকশাকে বাদ দিয়ে নয়, বরং একে সুশৃঙ্খল ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এনে জনবান্ধব করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
সভায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন।
সব মিলিয়ে, অনিয়ন্ত্রিত ই-রিকশা খাতটিকে নিয়মের মধ্যে এনে একদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ রাখার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন।

























