শ্যামনগরে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থানীয় অভিযোজন কৌশল নির্ধারণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- Update Time : ০৮:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৬ Time View

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ক্রমশ জটিল ও আন্তঃসম্পর্কিত ঝুঁকি তৈরি করছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, নদী ও উপকূল ভাঙন, তাপপ্রবাহ, পানির সংকট, বাস্তুতন্ত্রের অবক্ষয় এবং কৃষি ও মৎস্য খাতের পরিবর্তন—এসব ঝুঁকি জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, পানি সম্পদ, অবকাঠামো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এসব আন্তঃসম্পর্কিত ঝুঁকি মোকাবেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থানীয় অংশীজনদের সম্মিলিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা থেকেই শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হলো গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী কর্মশালা।এই প্রেক্ষাপটে বেসরকারি সংস্থা লিডার্স (LEDARS)-এর বাস্তবায়নাধীন PROAACT প্রকল্পের উদ্যোগে “জলবায়ু, পরিবেশগত ও সামাজিক বাস্তুতান্ত্রিক ঝুঁকি মূল্যায়ন” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালাটি ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বুধবার সকাল ৯টায় শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমূহের সমন্বয়ে আয়োজিত এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান ও উদীয়মান জলবায়ু ঝুঁকি, তার আন্তঃসম্পর্ক, ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও জনগোষ্ঠী এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা সম্পর্কে অংশীজনদের মধ্যে অভিন্ন ধারণা তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে অগ্রিম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক। সভায় সভাপতিত্ব করেন লিডার্সের সভাপতি জনাব মাস্টার নজরুল ইসলাম। এছাড়া কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট সরকারি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণমূলক ও সিস্টেম-ভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিচালিত এই কর্মশালায় প্রধান ঝুঁকিসমূহ চিহ্নিতকরণ, জলবায়ু হুমকি-বাস্তুতন্ত্র-জীবিকা-খাদ্য নিরাপত্তা-স্বাস্থ্য-পানি-অবকাঠামো ও সামাজিক ব্যবস্থার মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক অনুসন্ধান, দুর্বলতার মূল কারণ শনাক্তকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও জনগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণের কাজ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব ঝুঁকি কীভাবে রূপ নিতে পারে তা নিয়েও আলোচনা হয়।
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলার জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি প্রোফাইল সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা, অগ্রাধিকারভিত্তিক ঝুঁকির তালিকা এবং একটি প্রাথমিক ঝুঁকি আন্তঃসম্পর্ক মানচিত্র প্রণয়নে সক্ষম হন, যা ভবিষ্যৎ স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।




















