যশোরে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় অর্থপাচারে জেরিনের নাম
- Update Time : ০৭:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭ Time View

যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ
জেরিন সুলতানা মাগুরার সালিখা থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত যশোরে ইয়াবা সম্রাজ্য পরিচালনা করে মালয়েশিয়ায় বানিয়েছে টাকার পাহাড়। দেশের একাধিক জেলা থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এই অর্থ। ইতিমধ্যে একাধিক ব্যাংক হিসাব উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। সোনালী ব্যাংকের টঙ্গীবাড়ী মুন্সিগঞ্জ শাখা থেকে মেসার্স রাজন কসমেটিক্স, কক্সবাজার লালদিঘীরপাড় শাখা থেকে মেসার্স শাহ আলম এন্টারপ্রাইজ,নরসিংদী মাধবদী শাখা থেকে মেসার্স আহমেদ স্টোর ও ইসলামী ব্যাংকের কুমিল্লা জেলার মাধবপুর শাখা থেকে মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের মাধ্যমে প্রায় ১০-১৩ কোটি টাকা মালেশিয়ায় অবস্থানরত জেরিনের সহযোগি রবিউল ইসলামের নিকটে এই অর্থ পাঠানো হয়েছে। সহযোগী রবিউল ইসলাম মাগুরার শালিখা উপজেলার বুনিগাতি ইউনিয়নের রাধাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।
দীর্ঘদিন যাবত প্রশাসনকে বৃদ্ধ আঙ্গুল দেখিয়ে প্রতি চালানে হাজার হাজার পিচ ইয়াবা যশোর জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবারহ করছিলো নতুন নতুন কৌশলে। কিন্তু একাধিক পত্রিকা ও টেলিভিশনে ধারাবাহিক সংবাদপ্রকাশে গা ঢাকা দেন জেরিন। কিছুদিন গাঁ ঢাকা দিয়ে থেকে আবারো ব্যবসা পরিচালনা করছেন সহযোগী দিয়া। যশোর থেকে এক উঠতি বয়সে যুবককে দিয়ে পুনরায় ব্যবসা পরিচালনা করছেন। খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকটে ইতিমধ্যে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার তথ্য মিলেছে জেরিনের এই সহযোগীর বিরুদ্ধে। জেরিনের এই সহযোগীকে আটকের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
ইতিপূর্বে জেরিন সুলতানার বিশ হাজার ইয়াবার চালানের অডিও প্রকাশ পেলে নজরে আসে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের।
মাদক ব্যবসায়ী জেরিন মাগুরা জেলার সালিখা উপজেলার বামনখালী গ্রামের শেখ হাফিজুর রহমানের মেয়ে ও যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাউলী গ্রামের জহুরুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী। বর্তমানে তিনি সালিখা পুলমবাজারে আকিন ইসলামের বাড়ি অবস্থান করেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেরিন সুলতানা দীর্ঘদিন যাবত কক্সবাজার টেকনাফ থেকে ইয়াবা চালান যশোরে নিয়ে বিক্রি করে আসছেন। যশোর সদর ও চৌগাছা উপজেলায় বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর নিকট নিজেই পৌঁছে দেন এসব ইয়াবা চালান। আরও জানা যায়, ২ উপজেলার প্রায় ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে দিয়ে রমরমা মাদকের ব্যবসা করছেন তিনি।
গোপন সূত্র জানা যায়, সীমান্ত অঞ্চল থেকে অস্ত্র সাপ্লাই ও ইয়াবার কক্সবাজারের মালিককে খুশি করতে নারী সাপ্লাই দেন এই জেরিন সিন্ডিকেট। প্রশাসনের নজরদারি আটকাতে নিজেকে দিয়ে আকৃষ্ট করা বা অর্থের প্রলোভন দেখানোর মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।
এদিকে, দীর্ঘদিন যাবত প্রশাসনের ধরাছোঁয়ায় বাইরে ব্যবসা করে আসছিলেন জেরিন। বিশ হাজার পিচ ইয়াবার বড় চালানের লেনদেনে অর্থের গড়মিলের একাধিক অডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে আসে। এমন মাদকের বড় চালানোর বিষয় প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এই সিন্ডিকেটের সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে জোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এবিষয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যশোরের উপ-পরিচালক পারভীন আখতার বলেন, একজন মাদক ব্যবসায়ী এই সমাজের শত্রু। মাদক ব্যবসায়ীর বিষয়ে জেনেছি, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। সমাজ ধ্বংসকারীকে কখনো ছাড় দেওয়া হবে না।




















