ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যালিকার অভিযোগ আড়াল করতে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা? গ্রেফতার দাবি ঘিরে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৪:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৭২ Time View
Print

এমদাদুল হক, ক্রাইম রিপোর্টার মনিরামপুরঃ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তার শ্যালিকার আনা গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি আড়াল করতেই ওই চিকিৎসক ১০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি)।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশিত হলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে হয়রানি করা একটি পুরনো কৌশল। তারা অবিলম্বে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় সারাদেশে আন্দোলনের কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত চিকিৎসক যশোর আমলী আদালতে দণ্ডবিধির ৩৮৯/৩৪ ধারায় ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগে উল্লেখিত সময়সীমা অনুযায়ী ৮ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত হুমকির কথা বলা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে বিলম্বে মামলা দায়ের করায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া, মামলায় দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ নিয়েও অসামঞ্জস্য দেখা গেছে—এক স্থানে ৩০ হাজার টাকা, অন্য স্থানে ২০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে কোনো অডিও, ভিডিও বা আর্থিক লেনদেনের সুস্পষ্ট প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট তরুণী প্রথমে এক সংবাদ সম্মেলনে তার দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেন। পরবর্তীতে আবার ভিন্ন অবস্থান নিয়ে পূর্বের বক্তব্য অস্বীকার করেন, যা পুরো ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে, মণিরামপুর থানায় ওই তরুণী নিজেই বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত ডা. রাফসান জানিকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিকরা আরও দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। তারা ওই মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি মূল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা কঠোরভাবে দমন না করা হলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বাড়তে পারে।

মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের দাবি, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা সংবাদ প্রকাশ করেছেন, যা তাদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দণ্ডবিধির ৩৮৯ ধারা অনুযায়ী ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণে সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় আনা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শ্যালিকার অভিযোগ আড়াল করতে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা? গ্রেফতার দাবি ঘিরে উত্তেজনা

Update Time : ০৪:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
Print

এমদাদুল হক, ক্রাইম রিপোর্টার মনিরামপুরঃ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তার শ্যালিকার আনা গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি আড়াল করতেই ওই চিকিৎসক ১০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি)।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশিত হলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে হয়রানি করা একটি পুরনো কৌশল। তারা অবিলম্বে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় সারাদেশে আন্দোলনের কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত চিকিৎসক যশোর আমলী আদালতে দণ্ডবিধির ৩৮৯/৩৪ ধারায় ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগে উল্লেখিত সময়সীমা অনুযায়ী ৮ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত হুমকির কথা বলা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে বিলম্বে মামলা দায়ের করায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া, মামলায় দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ নিয়েও অসামঞ্জস্য দেখা গেছে—এক স্থানে ৩০ হাজার টাকা, অন্য স্থানে ২০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে কোনো অডিও, ভিডিও বা আর্থিক লেনদেনের সুস্পষ্ট প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট তরুণী প্রথমে এক সংবাদ সম্মেলনে তার দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেন। পরবর্তীতে আবার ভিন্ন অবস্থান নিয়ে পূর্বের বক্তব্য অস্বীকার করেন, যা পুরো ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে, মণিরামপুর থানায় ওই তরুণী নিজেই বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত ডা. রাফসান জানিকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিকরা আরও দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। তারা ওই মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি মূল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা কঠোরভাবে দমন না করা হলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বাড়তে পারে।

মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের দাবি, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা সংবাদ প্রকাশ করেছেন, যা তাদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দণ্ডবিধির ৩৮৯ ধারা অনুযায়ী ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণে সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় আনা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।