সাতক্ষীরায় বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর শিক্ষক দম্পতিকে ইট ছুড়ে গুরুতর জখম
- Update Time : ১০:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ১১৪ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা শহরের মাগুরা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং শিক্ষক দম্পতিকে পিটিয়ে ও ইট ছুড়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ ই এপ্রিল) সকালে মাগুরা জামে মসজিদের পাশে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবিনা খানম (৪৯) বাদী হয়ে একই এলাকার খন্দকার হারুন অর রশিদ চান্দুসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী সাবিনা খানম ও তার স্বামী খন্দকার আব্দুল করিম দুজনেই চাকরিজীবী। বুধবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। অভিযোগ রয়েছে, সকাল ৯টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী হারুন অর রশিদ চান্দুর নেতৃত্বে একদল লাঠিয়াল বাহিনী দেশীয় অস্ত্র (শাবল, কুড়াল, দা, হাতুড়ি) ও ইলেকট্রিক কাটিং মেশিন নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা বসতঘরের টিনের চাল কাটা শুরু করলে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করলে খবর পেয়ে সাবিনা খানম ও তার স্বামী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ভুক্তভোগীরা জানান, বাধা দিতে গেলে ১নং আসামি হারুন অর রশিদের হুকুমে অন্য আসামিরা তাদের ওপর চড়াও হয়। ১নং আসামি হত্যার উদ্দেশ্যে ইট দিয়ে আঘাত করলে আব্দুল করিমের কপাল ফেটে গুরুত্বর জখম হয়, যেখানে পরবর্তীতে দুটি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া ২নং আসামি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। হামলায় সাবিনা খানম, তার ভাসুর খন্দকার শফিকুল আলম এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আহত হয়েছেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলার সময় আসামিরা সাবিনা খানমের শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং তার গলা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ঘরবাড়ি ও মালামাল ভাঙচুর করে আনুমানিক ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফাতেমাতুজ জোহরা ও মো. মিলন জানান, আসামিরা অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে হামলা চালিয়েছে। তারা বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবং বাধা দিতে গেলে শিক্ষক দম্পতিকে রক্তাত্ব জখম করেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
















