ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে বাঘ বিধবা পরিবারের মাঝে ৩১টি ছাগল বিতরন

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৮ Time View
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারিয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে সংকটে দিন কাটাচ্ছেন, সেই ৩১টি বাঘ বিধবা পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ই আগষ্ট) বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উক্ত পরিবারের মাঝে ছাগল তুলে দেওয়া হয়। উপকারভোগী পরিবারগুলো সাতক্ষীরার গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন এবং খুলনার কয়রা উপজেলার। আয়োজকরা বলছেন, ছাগল পালনের মাধ্যমে এসব পরিবারের আয় বাড়ানো এবং তাদের স্বাবলম্বী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রিয় লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক মহাসিন উল হাকিম। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফরিদা খাতুন, জিএম মুনজুর হোসেন এবং ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে জিএম মাসুদুল আলম বলেন, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের বাঘ বিধবা পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে বসবাস করছে। তাদের হাতে ছাগল তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ অত্যন্ত মানবিক ও সময়োপযোগী। ছাগল পালন করে তারা নিজেরাই আয় করতে পারবেন।বিশেষ অতিথি মহাসিন উল হাকিম বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলের মানুষের জীবন সংগ্রাম খুবই কঠিন। বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীরা শুধু স্বামী হারাননি, হারিয়েছেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান বলেন, বাঘ বিধবা পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। ছাগল বিতরণের মাধ্যমে আমরা তাদের হাতে এমন একটি সম্পদ তুলে দিতে চাই, যেটি থেকে ভবিষ্যতে তারা আয় করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে আরও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা থাকবে। ছাগল পেয়ে উপকারভোগী নারীরা সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের ভাষ্য, এই সহায়তা সংসারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করবে এবং সন্তানদের লেখাপড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সহায়ক হবে। আয়োজকরা জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শ্যামনগরে বাঘ বিধবা পরিবারের মাঝে ৩১টি ছাগল বিতরন

Update Time : ০৮:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারিয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে সংকটে দিন কাটাচ্ছেন, সেই ৩১টি বাঘ বিধবা পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ই আগষ্ট) বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উক্ত পরিবারের মাঝে ছাগল তুলে দেওয়া হয়। উপকারভোগী পরিবারগুলো সাতক্ষীরার গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন এবং খুলনার কয়রা উপজেলার। আয়োজকরা বলছেন, ছাগল পালনের মাধ্যমে এসব পরিবারের আয় বাড়ানো এবং তাদের স্বাবলম্বী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রিয় লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক মহাসিন উল হাকিম। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফরিদা খাতুন, জিএম মুনজুর হোসেন এবং ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে জিএম মাসুদুল আলম বলেন, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের বাঘ বিধবা পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে বসবাস করছে। তাদের হাতে ছাগল তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ অত্যন্ত মানবিক ও সময়োপযোগী। ছাগল পালন করে তারা নিজেরাই আয় করতে পারবেন।বিশেষ অতিথি মহাসিন উল হাকিম বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলের মানুষের জীবন সংগ্রাম খুবই কঠিন। বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীরা শুধু স্বামী হারাননি, হারিয়েছেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান বলেন, বাঘ বিধবা পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। ছাগল বিতরণের মাধ্যমে আমরা তাদের হাতে এমন একটি সম্পদ তুলে দিতে চাই, যেটি থেকে ভবিষ্যতে তারা আয় করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে আরও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা থাকবে। ছাগল পেয়ে উপকারভোগী নারীরা সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের ভাষ্য, এই সহায়তা সংসারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করবে এবং সন্তানদের লেখাপড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সহায়ক হবে। আয়োজকরা জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।