গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব: জিম্মি সেবাগ্রহীতারা, নেপথ্যে দালাল-সিন্ডিকেট
- Update Time : ১০:০০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৪ Time View

উপশিরোনাম:সোজা পথে সীমাহীন ভোগান্তি, ঘুষ দিলেই মিলছে সেবা; নেপথ্যে উচ্চমান সহকারী অমিত পাল এবং কর্তৃপক্ষের দায়সারা জবাব!
লুৎফর সিকদার , গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি যেন এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির এক অনভিপ্রেত আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সেখানে ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেন ছাড়া মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা। অধিকন্তু, অধিকার সচেতন কোনো সেবাগ্রহীতা যদি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করতে যান, তবে তাঁর কপালে জোটে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার ও নাজেহাল। ফলে জরুরি এই সেবা পেতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই দালাল চক্রের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
সোজা পথে ভোগান্তি, ঘুষের চুক্তিতে মেলে মুক্তি
সাধারণ নিয়ম ও সরকারি নির্দেশিকা মেনে সঠিক কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র জমা দিতে গেলে গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে অশেষ ভোগান্তি। দিনের পর দিন ঘুরেও আবেদনপত্র জমা দিতে পারছেন না তারা। অথচ নেপথ্যে গোপন আর্থিক চুক্তি করলেই অলৌকিকভাবে সব বাধা দূর হয়ে যাচ্ছে! দালালদের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন করলেই অল্প সময়ের মধ্যে আবেদন জমা হয়ে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে পাসপোর্টের ডেলিভারি স্লিপ। গোপালগঞ্জ জেলা জুড়ে পাসপোর্ট অফিসের এই ওপেন সিক্রেট দুর্নীতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও সমালোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথাই নেই। উল্টো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি— সাধারণ মানুষের এটি নাকি ‘স্বভাবগত অভ্যাস’; ভালো কাজ করলেও কিছু মানুষ নাকি অপপ্রচার চালায়!
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও দালাল-সিন্ডিকেটের কৌশল
অফিসের এই সিন্ডিকেটের শিকার হওয়া উৎপল মৃধা, সিমলা রানী বিশ্বাস, প্রবীর বিশ্বাস রাজু, অবনি বিশ্বাস ও করুনা রানী বিশ্বাস তাঁদের চরম অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সমস্ত সঠিক নিয়ম মেনে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যুক্ত করে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দিনের পর দিন ঘুরেও তা জমা দিতে পারিনি; সামান্য কিছু ভুল ধরে বারবার আবেদনপত্রটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জমা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই ডেলিভারি স্লিপ হাতে পেয়েছি। এটি সরাসরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট! প্রথমে তারা নিজেরা নিয়ম মাফিক আবেদন বাতিল করবে, আর পরে তাদেরই নির্ধারিত দালালদের মাধ্যমে উৎকোচ বা ঘুষ দিয়ে জমা দিলে সেটি সঠিক বলে বিবেচিত হবে।”
সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কে?
গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের একটি গোপন বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি ও অনিয়মের মূল কলকাঠি নাড়ছেন উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল। তাঁর ছায়াতলেই নাকি দালালদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই গোপন লেনদেনের নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে।
দায় এড়িয়ে গেলেন সহকারী পরিচালক
অফিসের ভেতরের এমন গুরুতর সব অভিযোগের ব্যাপারে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ-এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি সরাসরি এড়িয়ে যান। ফোন টি কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের কাছে আমি কোনো বক্তব্য প্রদান করতে পারব না।”
পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের এই অপতৎপরতায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

























