ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুমকীতে স্কুলের দাতা সদস্য নিয়ে বিরোধ, ইউএনওসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৮ Time View
Print



‎মোঃ সজিব সরদার
‎স্টাফ রিপোর্টারঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ‘ভুয়া’ জমিদাতা সদস্য মনোনয়নের অভিযোগে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীসহ ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল (১৬ আগষ্ট) পটুয়াখালী সহকারী সিভিল জজ আদালতে এ মামলা করেন সৈয়দ লিয়াকত হোসেনসহ চার অভিযোগকারী।

‎৩৫ নং জলিশা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আবদুর রহমান ওরফে লাল মিয়া ১৯৩৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করলেও স্কুলের নামে  তিনি কোনো জমি দলিলবদ্ধ করে যাননি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ভূমি সংকট নিরসনে তাঁর মেয়ের ঘরের নাতি সৈয়দ লিয়াকত হোসেন লিকু মিরা ও অন্যরা তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে বিদ্যালয়কে দান করেন। অন্যদিকে, দাতা মনোনীত ব্যক্তি মো. আশিফুর রহমান প্রতিষ্ঠাতার প্রপৌত্র হলেও তিনি তার পরিবারের কেউ কখনো জমি দান করেননি বলে বাদীপক্ষের দাবি।

‎প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রকৃত জমিদাতা বা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে একজনকে দাতা সদস্য করা যাবে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, ২১ জুলাই সৈয়দ লিয়াকত হোসেনকে মনোনয়নের সর্বসম্মতি থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আশিফুর রহমানকে অবৈধ ভাবে দাতা সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

‎বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ মিনারা বেগম জানান, উভয় পক্ষকে ডেকে সবার স্বাক্ষর নিয়েই রেজুলেশন করেই আশিফুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে আপত্তি উঠলে তিনি ইউএনওকে বিষয়টি জানান। ইউএনও উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানির কথা বললেও পরে আর কাউকে ডাকেননি।

‎তিনি আরও জানান, “আমার এ বিদ্যালয়ে মোট ৩৩ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৭ শতক জমি লিকু মিরাসহ আরও ৩ জনে দান করেছেন। বাকি ২৬ শতক জমি প্রতিষ্ঠাতার হলেও তা দান নয়; বিদ্যালয়টি পূর্ব থেকেই সেটি ব্যবহার করে আসছে।”

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবে আমরা সেভাবেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

‎উল্লেখ্য, মামলায় স্কুলটির প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ইউএনও, আশিফুর রহমান, রাজা আবদুস সালাম ও রাজা শহিদুল হককে বিবাদী করা হয়েছে।


Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

দুমকীতে স্কুলের দাতা সদস্য নিয়ে বিরোধ, ইউএনওসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : ০৩:১৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
Print



‎মোঃ সজিব সরদার
‎স্টাফ রিপোর্টারঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ‘ভুয়া’ জমিদাতা সদস্য মনোনয়নের অভিযোগে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীসহ ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল (১৬ আগষ্ট) পটুয়াখালী সহকারী সিভিল জজ আদালতে এ মামলা করেন সৈয়দ লিয়াকত হোসেনসহ চার অভিযোগকারী।

‎৩৫ নং জলিশা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আবদুর রহমান ওরফে লাল মিয়া ১৯৩৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করলেও স্কুলের নামে  তিনি কোনো জমি দলিলবদ্ধ করে যাননি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ভূমি সংকট নিরসনে তাঁর মেয়ের ঘরের নাতি সৈয়দ লিয়াকত হোসেন লিকু মিরা ও অন্যরা তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে বিদ্যালয়কে দান করেন। অন্যদিকে, দাতা মনোনীত ব্যক্তি মো. আশিফুর রহমান প্রতিষ্ঠাতার প্রপৌত্র হলেও তিনি তার পরিবারের কেউ কখনো জমি দান করেননি বলে বাদীপক্ষের দাবি।

‎প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রকৃত জমিদাতা বা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে একজনকে দাতা সদস্য করা যাবে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, ২১ জুলাই সৈয়দ লিয়াকত হোসেনকে মনোনয়নের সর্বসম্মতি থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আশিফুর রহমানকে অবৈধ ভাবে দাতা সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

‎বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ মিনারা বেগম জানান, উভয় পক্ষকে ডেকে সবার স্বাক্ষর নিয়েই রেজুলেশন করেই আশিফুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে আপত্তি উঠলে তিনি ইউএনওকে বিষয়টি জানান। ইউএনও উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানির কথা বললেও পরে আর কাউকে ডাকেননি।

‎তিনি আরও জানান, “আমার এ বিদ্যালয়ে মোট ৩৩ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৭ শতক জমি লিকু মিরাসহ আরও ৩ জনে দান করেছেন। বাকি ২৬ শতক জমি প্রতিষ্ঠাতার হলেও তা দান নয়; বিদ্যালয়টি পূর্ব থেকেই সেটি ব্যবহার করে আসছে।”

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবে আমরা সেভাবেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

‎উল্লেখ্য, মামলায় স্কুলটির প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ইউএনও, আশিফুর রহমান, রাজা আবদুস সালাম ও রাজা শহিদুল হককে বিবাদী করা হয়েছে।