ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৩ Time View
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃসাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গুমানতলী ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক নূর আলমের (৩৫) বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে প্রাইভেট পড়ানোর সময় কৌশলে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। বর্তমানে শিশুটি প্রায় ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।অভিযুক্ত নূর আলম শ্যামনগর উপজেলার গুমানতলী গ্রামের সামছুর সরদারের ছেলে এবং গুমানতলী ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিশুটি যশোরের শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। লেখাপড়ার জন্য সে শ্যামনগরের গুমানতলী গ্রামে তার নানা জিয়াদ আলী গাজীর বাড়িতে থাকত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ত বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে নানার বাড়িতে প্রাইভেট পড়ার সময় শিশুটির জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। এতে সে অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি শিশুটির ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে ওই ভিডিও দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইল করেন। এমনকি কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শ্যামনগর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান শিশুটির স্বজনরা। এ সময় শিশুটি তিনজনের নাম উল্লেখ করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে নূর আলম ছাড়াও গুমানতলী মাদ্রাসার ছাত্র আবু হাসান (১৪), পিতা—শাজাহান সরদার এবং হযরত (১৭), পিতা—হানিফ সরদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো, ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো পুলিশি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে অভিযোগের সত্যতা এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির চিকিৎসা ও গর্ভাবস্থার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক নূর আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করেন। তিনি এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারবেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। তারা হাসপাতাল থেকে ফিরলে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শ্যামনগরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা

Update Time : ০৮:৪৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃসাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গুমানতলী ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক নূর আলমের (৩৫) বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে প্রাইভেট পড়ানোর সময় কৌশলে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। বর্তমানে শিশুটি প্রায় ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।অভিযুক্ত নূর আলম শ্যামনগর উপজেলার গুমানতলী গ্রামের সামছুর সরদারের ছেলে এবং গুমানতলী ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিশুটি যশোরের শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। লেখাপড়ার জন্য সে শ্যামনগরের গুমানতলী গ্রামে তার নানা জিয়াদ আলী গাজীর বাড়িতে থাকত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ত বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে নানার বাড়িতে প্রাইভেট পড়ার সময় শিশুটির জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। এতে সে অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি শিশুটির ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে ওই ভিডিও দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইল করেন। এমনকি কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শ্যামনগর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান শিশুটির স্বজনরা। এ সময় শিশুটি তিনজনের নাম উল্লেখ করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে নূর আলম ছাড়াও গুমানতলী মাদ্রাসার ছাত্র আবু হাসান (১৪), পিতা—শাজাহান সরদার এবং হযরত (১৭), পিতা—হানিফ সরদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো, ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো পুলিশি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে অভিযোগের সত্যতা এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির চিকিৎসা ও গর্ভাবস্থার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক নূর আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করেন। তিনি এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারবেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। তারা হাসপাতাল থেকে ফিরলে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।