ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্র নেই, তবুও ‘অভিভাবক’ সদস্য -বাউফলে ধুলিয়া কলেজে শিক্ষকসহ নানা অভিযোগ ‎

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৫:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৫ Time View
Print

মোঃ সজিব সরদার ‎স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে কয়েকজন শিক্ষকের নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা ও পাঠদান না করার অভিযোগ উঠেছে।একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটিতে অভিভাবক সদস্য নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব অনিয়মের পেছনে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলামের প্রশ্রয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
‎তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এডহক কমিটির সভাপতি ও বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ।
‎
‎বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক নুপুর আক্তারকে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেলেও বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিজাম উদ্দীনকে পাওয়া যায়নি।
‎
‎অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না এবং পাঠদানেও অনিয়ম করেন।
‎
‎শিক্ষার্থীদের দাবি, তিনি কয়েক দিন পরপর প্রতিষ্ঠানে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিজাম উদ্দীন ও সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক নুপুর আক্তারের বিরুদ্ধেও।
‎
‎তবে নিজাম উদ্দীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার ও বুধবার পটুয়াখালী আদালতে একটি কাজের জন্য ছুটি নিয়েছি। কেউ যদি অভিযোগ করে থাকে, তা ভিত্তিহীন।
‎
‎অন্যদিকে, ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎
‎প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইসমাইল হোসেন প্রতিষ্ঠানে এসে মৌখিকভাবে বলে বাড়িতে গেছেন। আর নিজাম উদ্দীন পটুয়াখালীতে কী যেন কাজ আছে বলে কিছুক্ষণ আগে ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। নুপুর আক্তার প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন।
‎
‎তবে নিজাম উদ্দীনের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অধ্যক্ষের বক্তব্যের কিছুটা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
‎
‎ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটিতে অভিভাবক সদস্য হিসেবে সোবহান খানকে রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
‎
‎অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, তাঁর কোনো সন্তান বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে না। ফলে তাঁকে কীভাবে অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
‎
‎অবিভাবক সদস্য সোবহান খান বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে ঢাকায় ব্যবসা করেন। ছোট ছেলে আতিকুল ইসলাম গত বছর ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বর্তমানে কালিশুরী কলেজে ডিগ্রিতে পড়ছেন। তাঁর কোনো সন্তান বর্তমানে ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যয়নরত নেই বলেও তিনি জানান।
‎
‎তাঁকে কীভাবে এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে সোবহান খান বলেন, ‘এর আগে দুইবার সদস্য ছিলাম। অধ্যক্ষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। তাই এবারও আমাকে অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে।
‎
‎এ বিষয়ে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সভাপতি হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অভিভাবক সদস্য হিসেবে সোবহান খানকে রাখা হয়েছে।
‎
‎সোবহান খানের ছেলে বর্তমানে ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, তাঁর ছেলে আতিকুল ইসলাম গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এবং বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। তবে সোবহান খানের দেওয়া বক্তব্যের কথা জানালে অধ্যক্ষ বলেন, ‘সে বুঝতে পারেনি, তাই ভুল বলেছে।
‎
‎এদিকে, শিক্ষক অনুপস্থিতি ও এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এডহক কমিটির সভাপতি সালেহ আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও তাঁর বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎অভিভাবক সদস্য সোবহান খানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের জন্য অধ্যক্ষের ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
‎
‎

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

৯

ছাত্র নেই, তবুও ‘অভিভাবক’ সদস্য -বাউফলে ধুলিয়া কলেজে শিক্ষকসহ নানা অভিযোগ ‎

Update Time : ০৪:২৫:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
Print

মোঃ সজিব সরদার ‎স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে কয়েকজন শিক্ষকের নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা ও পাঠদান না করার অভিযোগ উঠেছে।একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটিতে অভিভাবক সদস্য নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব অনিয়মের পেছনে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলামের প্রশ্রয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
‎তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এডহক কমিটির সভাপতি ও বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ।
‎
‎বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক নুপুর আক্তারকে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেলেও বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিজাম উদ্দীনকে পাওয়া যায়নি।
‎
‎অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না এবং পাঠদানেও অনিয়ম করেন।
‎
‎শিক্ষার্থীদের দাবি, তিনি কয়েক দিন পরপর প্রতিষ্ঠানে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিজাম উদ্দীন ও সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক নুপুর আক্তারের বিরুদ্ধেও।
‎
‎তবে নিজাম উদ্দীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার ও বুধবার পটুয়াখালী আদালতে একটি কাজের জন্য ছুটি নিয়েছি। কেউ যদি অভিযোগ করে থাকে, তা ভিত্তিহীন।
‎
‎অন্যদিকে, ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎
‎প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইসমাইল হোসেন প্রতিষ্ঠানে এসে মৌখিকভাবে বলে বাড়িতে গেছেন। আর নিজাম উদ্দীন পটুয়াখালীতে কী যেন কাজ আছে বলে কিছুক্ষণ আগে ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। নুপুর আক্তার প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন।
‎
‎তবে নিজাম উদ্দীনের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অধ্যক্ষের বক্তব্যের কিছুটা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
‎
‎ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটিতে অভিভাবক সদস্য হিসেবে সোবহান খানকে রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
‎
‎অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, তাঁর কোনো সন্তান বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে না। ফলে তাঁকে কীভাবে অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
‎
‎অবিভাবক সদস্য সোবহান খান বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে ঢাকায় ব্যবসা করেন। ছোট ছেলে আতিকুল ইসলাম গত বছর ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বর্তমানে কালিশুরী কলেজে ডিগ্রিতে পড়ছেন। তাঁর কোনো সন্তান বর্তমানে ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যয়নরত নেই বলেও তিনি জানান।
‎
‎তাঁকে কীভাবে এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে সোবহান খান বলেন, ‘এর আগে দুইবার সদস্য ছিলাম। অধ্যক্ষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। তাই এবারও আমাকে অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে।
‎
‎এ বিষয়ে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সভাপতি হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অভিভাবক সদস্য হিসেবে সোবহান খানকে রাখা হয়েছে।
‎
‎সোবহান খানের ছেলে বর্তমানে ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, তাঁর ছেলে আতিকুল ইসলাম গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এবং বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। তবে সোবহান খানের দেওয়া বক্তব্যের কথা জানালে অধ্যক্ষ বলেন, ‘সে বুঝতে পারেনি, তাই ভুল বলেছে।
‎
‎এদিকে, শিক্ষক অনুপস্থিতি ও এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এডহক কমিটির সভাপতি সালেহ আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও তাঁর বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎অভিভাবক সদস্য সোবহান খানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের জন্য অধ্যক্ষের ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
‎
‎