নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক, কৃষকের স্বস্তি কতটা?
- Update Time : ০২:০৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১২ Time View

রিপন ইসলাম
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
সরকারি হিসাবে সংকট নেই, মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত দামে সার পাওয়ার অপেক্ষায় কৃষক
চলতি কৃষি মৌসুমকে সামনে রেখে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সারের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সরকারি নিয়ম ও বরাদ্দ অনুযায়ী অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে সাধারণ কৃষকদের মাঝে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় সার বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারি তথ্যমতে, উপজেলায় বর্তমানে সারের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট নেই।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কৃষিপ্রধান এলাকায় চলতি মৌসুমে সার ব্যবহারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাষিরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতেই যদি পর্যাপ্ত ও মানসম্মত সার পাওয়া যায়, তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তবে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের প্রধান দাবি ও প্রত্যাশা হলো—সরকারিভাবে নির্ধারিত দামেই যেন প্রয়োজনের সময় কোনো হয়রানি ছাড়া ডিলার বা খুচরা পয়েন্ট থেকে সার কেনা যায়।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফসলের মূল মৌসুমে বা রোপণের সংকটময় সময়ে যদি সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, তবে শুধু উৎপাদন খরচই বাড়ে না, বরং ফসল রোপণ ও পরিচর্যার মূল সময় পার হয়ে যায়। এতে ফসলের সার্বিক ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ফলে সার সরবরাহ কাগজ-কলমে স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বাজারে এর নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য ও ডিলারদের গুদামে মজুত পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় চাষিরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী নিয়মিত সার আসছে এবং তা সুষমভাবে বণ্টন করা হচ্ছে। কোথাও কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, কালোবাজারি কিংবা অবৈধ মজুতদারির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মাঠের বাস্তবতা কতটা স্বস্তিদায়ক?
সরকারি পরিসংখ্যানে সরবরাহ স্বাভাবিক বলা হলেও প্রকৃত চিত্র জানতে মাঠপর্যায়ে কৃষক, খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের মধ্যে নিয়মিত তদারকি জরুরি। কিশোরগঞ্জের বাহাগিলি, নিতাই, চাঁদখানা, পুটিমারীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় বাজার ও ডিলার পয়েন্টগুলোতে আদৌ সরকারি রেটে সার বিক্রি হচ্ছে কি না এবং প্রান্তিক কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার কিনতে পারছেন কি না—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মাঠপর্যায়ের একাধিক কৃষক জানান, সরবরাহ ব্যবস্থা কেবল ডিলারদের খাতা কিংবা সরকারি ড্যাশবোর্ডে স্বাভাবিক থাকলে চলবে না; তা মাঠের শেষ প্রান্তের কৃষকের হাতে সময়মতো পৌঁছাতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় ডিলার পয়েন্টে সার পাওয়া গেলেও প্রত্যন্ত এলাকার খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি নেওয়া হয়। এ জন্য ইউনিয়নভিত্তিক বাজার মনিটরিং কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী চাষিরা।
অন্যদিকে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সারের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকি অব্যাহত রয়েছে। কোনো ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা অসদুপায় অবলম্বন করলে কিংবা কৃষকদের সার দিতে টালবাহানা করলে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষকের স্বস্তিই সরবরাহ ব্যবস্থার আসল পরীক্ষা
কৃষি খাতকে সচল রাখা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সরকারি উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে সরকারি উদ্যোগের প্রকৃত সুফল তখনই মিলবে, যখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন ক্ষুদ্র বা প্রান্তিক কৃষকও কোনো ধরনের হয়রানি ও বাড়তি খরচ ছাড়া প্রয়োজনীয় সার কিনতে পারবেন।
কিশোরগঞ্জের সাধারণ কৃষকদের এখন একটাই প্রত্যাশা—পুরো কৃষি মৌসুমে যেন সিন্ডিকেট বা অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে সারের কোনো কৃত্রিম সংকট না তৈরি হয় এবং ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়ার পূর্ণ নিশ্চয়তা থাকে।
প্রতিবেদক:মোঃ রিপন ইসলাম কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি

























