ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের রাউজানে মন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য উদ্ধার, গ্রেফতার ১

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩৮ Time View
Print

★ শ্রী সুপণ বিশ্বাস- (স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম।)

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একটি সনাতনী মা মনসা মন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য উদ্ধার করেছে রাউজান থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মুশফিকুর রহমান সিয়াম (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৩ মিনিট থেকে ১২টা ১৬ মিনিটের মধ্যে রাউজান থানাধীন চিকদাইর এলাকায় রাউজান টেকনিক্যাল স্কুলের উত্তর পাশে অবস্থিত একটি পারিবারিক মনসা মন্দির থেকে মনসা দেবীর পরিহিত বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য চুরি হয়। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ছিল ২ ভরি ৮ আনা, যার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা। এছাড়া ৪ ভরি রৌপ্যের আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম, চোরাইকৃত মালামাল দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশনা দেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মোহাম্মদ আমিন, এসআই মোঃ জান্নাতুন নাঈম রাজন ও এএসআই মোঃ রবিউল আলমের সমন্বয়ে একটি বিশেষ আভিযানিক দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশের তৎপরতা, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য
প্রযুক্তির সহায়তায় চুরির ঘটনায় জড়িত হিসেবে মুশফিকুর রহমান সিয়ামকে শনাক্ত করা হয়। পরে ২৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে রাউজান থানাধীন ১১ নম্বর পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাগতিয়া এলাকার মীর কাশেমের নতুন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতঘরের শয়নকক্ষে থাকা একটি স্টিলের আলমিরা থেকে চোরাইকৃত ১ জোড়া কানের দুল, ১টি মাথার টিকলী, ১টি লকেট ও ২টি বেলপাতাসহ মোট ২ ভরি ১ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ১টি গলার চেইন ও ১ জোড়া নুপুরসহ ৪ ভরি ওজনের রৌপ্যও উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত যুবক কয়েক দিন ধরে ওই মন্দিরে যাতায়াত করছিল। পূজা-অর্চনা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের সময় সে মন্দিরের ভেতরের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেয়। পরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন সুযোগ বুঝে সবার অগোচরে মন্দির থেকে স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য চুরি করে নিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আশুতোষ সিংহের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে রাউজান থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

চট্টগ্রামের রাউজানে মন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য উদ্ধার, গ্রেফতার ১

Update Time : ০৯:০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
Print

★ শ্রী সুপণ বিশ্বাস- (স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম।)

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একটি সনাতনী মা মনসা মন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য উদ্ধার করেছে রাউজান থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মুশফিকুর রহমান সিয়াম (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৩ মিনিট থেকে ১২টা ১৬ মিনিটের মধ্যে রাউজান থানাধীন চিকদাইর এলাকায় রাউজান টেকনিক্যাল স্কুলের উত্তর পাশে অবস্থিত একটি পারিবারিক মনসা মন্দির থেকে মনসা দেবীর পরিহিত বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য চুরি হয়। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ছিল ২ ভরি ৮ আনা, যার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা। এছাড়া ৪ ভরি রৌপ্যের আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম, চোরাইকৃত মালামাল দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশনা দেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মোহাম্মদ আমিন, এসআই মোঃ জান্নাতুন নাঈম রাজন ও এএসআই মোঃ রবিউল আলমের সমন্বয়ে একটি বিশেষ আভিযানিক দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশের তৎপরতা, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য
প্রযুক্তির সহায়তায় চুরির ঘটনায় জড়িত হিসেবে মুশফিকুর রহমান সিয়ামকে শনাক্ত করা হয়। পরে ২৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে রাউজান থানাধীন ১১ নম্বর পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাগতিয়া এলাকার মীর কাশেমের নতুন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতঘরের শয়নকক্ষে থাকা একটি স্টিলের আলমিরা থেকে চোরাইকৃত ১ জোড়া কানের দুল, ১টি মাথার টিকলী, ১টি লকেট ও ২টি বেলপাতাসহ মোট ২ ভরি ১ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ১টি গলার চেইন ও ১ জোড়া নুপুরসহ ৪ ভরি ওজনের রৌপ্যও উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত যুবক কয়েক দিন ধরে ওই মন্দিরে যাতায়াত করছিল। পূজা-অর্চনা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের সময় সে মন্দিরের ভেতরের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেয়। পরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন সুযোগ বুঝে সবার অগোচরে মন্দির থেকে স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য চুরি করে নিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আশুতোষ সিংহের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে রাউজান থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।