রাজাপুরে আন্ত ধর্মীয় সংলাপ: সম্প্রীতি ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের আহ্বান।
- Update Time : ১০:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
- / ১০২ Time View

মোঃ কামরুল হাসান রানা
ঝালকাঠি প্রতিনিধি।
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলা পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) রাজাপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে “সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্পের আওতায় এবং যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর আর্থিক সহায়তায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।
পিএফজি কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ হোসাইন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম রেজা সজীব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা উম্মে আয়শা সিদ্দিকা এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হক নান্টু।
সংলাপে বিভিন্ন ধর্মের ইমাম ও পুরোহিতদের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, জাতীয় পার্টি ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম রেজা সজীব বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতা একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম পূর্বশর্ত। তিনি বলেন, ভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পেলে সমাজে বিভেদ, বিদ্বেষ ও সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। তিনি সকলকে সম্প্রীতির সংস্কৃতি জোরদার করে শান্তি, সহাবস্থান এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মনোভাব আরও জোরদার করতে হবে। তারা মতপ্রকাশ করেন যে, সংঘাত ও বিভেদ পরিহার করে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, গুজব ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তারা “সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির রাজাপুর গড়ি”—এই প্রত্যয় বাস্তবায়নে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




















