ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৫০ বিঘার বাফলার বিলে শাপলা-পদ্মের মেলা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা, পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি

মো. রিপন ইসলাম কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৩:২৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৭ Time View
Print

মো. রিপন ইসলাম
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচণ্ডী ইউনিয়নের বাফলা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাফলার বিল এখন শাপলা ও পদ্মফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে। প্রায় ৩৫০ বিঘা আয়তনের বিশাল বিলজুড়ে ফুটে থাকা সাদা শাপলা ও পদ্মফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুগ্ধ করছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের প্রকৃতিপ্রেমীদের।

বর্ষার পানিতে ভরে ওঠা বাফলার বিলের চারপাশে এখন চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ। আর বিলের পানির ওপর ফুটে থাকা অসংখ্য শাপলা ও পদ্মফুল যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক অপূর্ব চিত্র। ভোরের আলো ফুটতেই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ।

দর্শনার্থীদের কেউ নৌকায় চড়ে বিল ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ধারণ করছেন ছবি ও ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাফলার বিলের শাপলা-পদ্মের সৌন্দর্যের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দিন দিন দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বাফলার বিলে শাপলা ও পদ্মফুলের সমারোহ দেখা যায়। বর্ষাকালে বিলটি স্থানীয়দের মাছ ধরার অন্যতম স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শীত মৌসুমে এখানে অতিথি পাখির আনাগোনাও দেখা যায়। আবার পানি শুকিয়ে গেলে বিলের বিভিন্ন অংশে বোরো ধান চাষ করেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয়রা মনে করছেন, বাফলার বিলকে ঘিরে পর্যটনের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সরকারি উদ্যোগে বিলটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য বসার স্থান, যাতায়াতব্যবস্থা, নৌভ্রমণের সুযোগ ও খাবারের দোকানসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হলে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

এতে একদিকে যেমন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য নতুন একটি দর্শনীয় স্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বাফলার বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এটি নীলফামারীর অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে শাপলা ও পদ্মফুলে সেজে ওঠা বাফলার বিল যেন পরিণত হয়েছে প্রকৃতির এক অপরূপ ফুলের রাজ্যে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

৩৫০ বিঘার বাফলার বিলে শাপলা-পদ্মের মেলা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা, পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি

Update Time : ০৩:২৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
Print

মো. রিপন ইসলাম
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচণ্ডী ইউনিয়নের বাফলা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাফলার বিল এখন শাপলা ও পদ্মফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে। প্রায় ৩৫০ বিঘা আয়তনের বিশাল বিলজুড়ে ফুটে থাকা সাদা শাপলা ও পদ্মফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুগ্ধ করছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের প্রকৃতিপ্রেমীদের।

বর্ষার পানিতে ভরে ওঠা বাফলার বিলের চারপাশে এখন চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ। আর বিলের পানির ওপর ফুটে থাকা অসংখ্য শাপলা ও পদ্মফুল যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক অপূর্ব চিত্র। ভোরের আলো ফুটতেই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ।

দর্শনার্থীদের কেউ নৌকায় চড়ে বিল ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ধারণ করছেন ছবি ও ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাফলার বিলের শাপলা-পদ্মের সৌন্দর্যের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দিন দিন দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বাফলার বিলে শাপলা ও পদ্মফুলের সমারোহ দেখা যায়। বর্ষাকালে বিলটি স্থানীয়দের মাছ ধরার অন্যতম স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শীত মৌসুমে এখানে অতিথি পাখির আনাগোনাও দেখা যায়। আবার পানি শুকিয়ে গেলে বিলের বিভিন্ন অংশে বোরো ধান চাষ করেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয়রা মনে করছেন, বাফলার বিলকে ঘিরে পর্যটনের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সরকারি উদ্যোগে বিলটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য বসার স্থান, যাতায়াতব্যবস্থা, নৌভ্রমণের সুযোগ ও খাবারের দোকানসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হলে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

এতে একদিকে যেমন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য নতুন একটি দর্শনীয় স্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বাফলার বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এটি নীলফামারীর অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে শাপলা ও পদ্মফুলে সেজে ওঠা বাফলার বিল যেন পরিণত হয়েছে প্রকৃতির এক অপরূপ ফুলের রাজ্যে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।