৪নং বাহাগিলী ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে জালিয়াতি: চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বারদের লিখিত অভিযোগ
- Update Time : ০৯:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / ৪৩ Time View

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৪নং বাহাগিলী ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট করার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান মো: সুজাউদ্দৌলা লিপ্টনের বিরুদ্ধে।
নিয়ম অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ভিজিএফ কমিটি’র মাধ্যমে প্রকাশ্য মিটিং করে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরির বিধান থাকলেও, তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। পরিষদের ৯ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্যকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে চেয়ারম্যান একক রেজুলেশন ও নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই জালিয়াতি সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, প্রকৃত কার্ডধারীরা চাল না পেলেও সিন্ডিকেট চক্র কার্ড ছাড়াই সরকারি গুদামের চাল তুলে নিয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিজিটাল স্কেল বা সঠিক বাটখারা ব্যবহার করে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের কথা থাকলেও, বাহাগিলী ইউনিয়নে তা মানা হয়নি। এমনকি বিতরণের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় এলাকায় মাইকিং বা নোটিশের মাধ্যমে জনগণকে জানানো হয়নি।
চেয়ারম্যানের একক রেজুলেশনের (যা অভিযোগের সংযুক্তি-৭ এ উল্লেখ করা হয়েছে) মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া তালিকায় যে ৫টি বড় ধরণের জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে, তা লিখিত অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন মেম্বারেরা ও ৪নং বাহাগিলী ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ:
১. মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার: মৃত ব্যক্তির নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে চাল উত্তোলন করা হয়েছে।
২. বহিরাগতদের অন্তর্ভুক্তি: অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নাম ও এনআইডি ব্যবহার করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে।৩. প্রভাবশালীদের নাম: দুস্থদের বরাদ্দের চালের তালিকায় এলাকার বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ঢুকানো হয়েছে।
৪. এক পরিবারে একাধিক বরাদ্দ: একই পরিবারের স্বামী ও স্ত্রী—উভয়ের নামেই পৃথক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।
৫. নামের পুনরাবৃত্তি: একই ব্যক্তির নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র তালিকায় একাধিকবার ব্যবহার করে চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান মো: সুজাউদ্দৌলা লিপ্টনের এমন নজিরবিহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাহাগিলী ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ ওয়ার্ড মেম্বার এবং সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারগণ একজোট হয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। তারা গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে কিশোরগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (BRDB) বরাবর প্রথম একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যার প্রেক্ষিতে বর্তমানে একটি তদন্ত মামলা চলমান রয়েছে।এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে তদন্তের সুবিধার্থে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র সংবলিত একটি “সম্পূরক লিখিত বক্তব্য ও তথ্য প্রমাণাদি” উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দিয়েছেন ক্ষুব্ধ মেম্বাররা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার (BRDB) আল-মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা মাঠপর্যায়ে গিয়ে প্রতিটি তথ্য ও তালিকা সরজমিনে সুন্দরভাবে যাচাই করছেন। তদন্তের সকল প্রক্রিয়া শেষ হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদনটি আপনাদের (গণমাধ্যমের) সামনে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।”
বাহাগিলী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনগণের দাবি, সরকারের দেওয়া এই পবিত্র ঈদের খাদ্য সহায়তা কেন সাধারণ গরিব মানুষের হাত পর্যন্ত পৌঁছালো না, তার সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে হবে। এই জালিয়াতি ও সিন্ডিকেটের পেছনে মূল হোতা চেয়ারম্যানসহ যারা জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং তা সর্বসাধারণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ৪নং বাহাগিলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সুজাউদ্দৌলা লিপ্টনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ওনাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তার বাসায় একটি চুরির ঘটনা ঘটায় তিনি কিছুটা ব্যস্ত বা অনীহায় রয়েছেন।
পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সুফিয়ার রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “সব কিছু চেয়ারম্যান সাহেব জানেন, এই বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।”

























