ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাগনভুঁইয়ায় পিআইওর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ঠিকাদারদের ক্ষোভ

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ১০:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৬৩ Time View
Print

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার ফেনী।

টিআর-কাবিখা প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য, বিল প্রদানে হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল।

ফেনী জেলার দাগনভুঁইয়া উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রবিউল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন এবং কাজের বিল প্রদানে নানাভাবে হয়রানি করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পে কাজ পেতে এবং বাস্তবায়ন করতে গেলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রেও আবার নতুন করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঠিকাদারদের ভাষ্য, পিআইও রবিউল হোসেন নিজেই অনেক প্রকল্পে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে কাজ বাস্তবায়ন করেন, ফলে অন্য ঠিকাদাররা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। কেউ কাজ করতে চাইলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে কমিশন দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, অফিসে বসেই তিনি চালের ডিলারির মতো কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সরকারি প্রকল্পকে ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অফিসে নিজস্ব বাহিনী ব্যবহার, ঠিকাদারদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালির অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, তার আচরণ অনেক সময় মাদকাসক্ত ব্যক্তির মতো অস্থির ও অসংযত বলে মনে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত ও সময়মতো অফিস করেন না, যার ফলে সরকারি সেবাগ্রহীতারা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারি অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগ গ্রহণকারী দপ্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিডিএম), ফেনী জেলা প্রশাসক, জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং দাগনভুঁইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়।
অভিযোগকারীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের দুর্নীতি চলতে থাকলে প্রকৃত উন্নয়ন ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পিআইও রবিউল হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং দাগনভুঁইয়ার উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কতটা নিশ্চিত করা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

দাগনভুঁইয়ায় পিআইওর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ঠিকাদারদের ক্ষোভ

Update Time : ১০:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
Print

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার ফেনী।

টিআর-কাবিখা প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য, বিল প্রদানে হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল।

ফেনী জেলার দাগনভুঁইয়া উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রবিউল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন এবং কাজের বিল প্রদানে নানাভাবে হয়রানি করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পে কাজ পেতে এবং বাস্তবায়ন করতে গেলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রেও আবার নতুন করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঠিকাদারদের ভাষ্য, পিআইও রবিউল হোসেন নিজেই অনেক প্রকল্পে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে কাজ বাস্তবায়ন করেন, ফলে অন্য ঠিকাদাররা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। কেউ কাজ করতে চাইলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে কমিশন দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, অফিসে বসেই তিনি চালের ডিলারির মতো কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সরকারি প্রকল্পকে ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অফিসে নিজস্ব বাহিনী ব্যবহার, ঠিকাদারদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালির অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, তার আচরণ অনেক সময় মাদকাসক্ত ব্যক্তির মতো অস্থির ও অসংযত বলে মনে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত ও সময়মতো অফিস করেন না, যার ফলে সরকারি সেবাগ্রহীতারা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারি অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগ গ্রহণকারী দপ্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিডিএম), ফেনী জেলা প্রশাসক, জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং দাগনভুঁইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়।
অভিযোগকারীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের দুর্নীতি চলতে থাকলে প্রকৃত উন্নয়ন ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পিআইও রবিউল হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং দাগনভুঁইয়ার উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কতটা নিশ্চিত করা হয়।