ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে বেড়াতে নিয়ে দুই বোনকে আটকে রাখার অভিযোগ, পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৫:৫২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০ Time View
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্বজনদের কাছে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক বোনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভূক্তভোগীদের মা বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাপিতখালী গ্রামের মোঃ কুয়াত আলীর স্ত্রী মোছাঃ রোজিনা খাতুনের (৩৮) বাড়িতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বেড়াতে আসেন তাঁর বোন জামাই মোঃ সাহেব আলী (৩০)। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে চন্ডিপুর (গলাচাপা) এলাকার বাসিন্দা সাহেব আলী তাঁর দুই শ্যালিকা—মনিরা আক্তার মিতা (১৪) ও মোছাঃ লামিয়া ইয়াসমিনকে (০৭) নিজের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যান। পরদিন মেয়েদের ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নানা তালবাহানা শুরু করেন।
‎পরবর্তীতে ভূক্তভোগী পিতা-মাতা সাহেব আলীসহ অন্যান্য বিবাদীদের (তাছলিমা খাতুন, মোঃ রফিকুল ইসলাম গাজী ও মোছাঃ নুরুন্নাহার খাতুন) কাছে সন্তানদের ফেরত চাইতে গেলে তাঁরা গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে। সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে দুই কন্যাকে ফেরত চাইতে গেলে বিবাদীরা তাদের সন্তানদের ক্ষতি করারও হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
‎অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারীর তাৎক্ষণিক নির্দেশে পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সাব ইন্সপেক্টর খন্দকার আনোয়ার ও সহকারী সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নবীরের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মোঃ সাগরের সহযোগিতায়  বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর বেলা ১২ টার দিকে অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ দুই বালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করে শ্যামনগর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে অল্প সময়ের মধ্যে দুই সন্তানকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
‎

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শ্যামনগরে বেড়াতে নিয়ে দুই বোনকে আটকে রাখার অভিযোগ, পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

Update Time : ০৫:৫২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্বজনদের কাছে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক বোনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভূক্তভোগীদের মা বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাপিতখালী গ্রামের মোঃ কুয়াত আলীর স্ত্রী মোছাঃ রোজিনা খাতুনের (৩৮) বাড়িতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বেড়াতে আসেন তাঁর বোন জামাই মোঃ সাহেব আলী (৩০)। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে চন্ডিপুর (গলাচাপা) এলাকার বাসিন্দা সাহেব আলী তাঁর দুই শ্যালিকা—মনিরা আক্তার মিতা (১৪) ও মোছাঃ লামিয়া ইয়াসমিনকে (০৭) নিজের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যান। পরদিন মেয়েদের ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নানা তালবাহানা শুরু করেন।
‎পরবর্তীতে ভূক্তভোগী পিতা-মাতা সাহেব আলীসহ অন্যান্য বিবাদীদের (তাছলিমা খাতুন, মোঃ রফিকুল ইসলাম গাজী ও মোছাঃ নুরুন্নাহার খাতুন) কাছে সন্তানদের ফেরত চাইতে গেলে তাঁরা গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে। সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে দুই কন্যাকে ফেরত চাইতে গেলে বিবাদীরা তাদের সন্তানদের ক্ষতি করারও হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
‎অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারীর তাৎক্ষণিক নির্দেশে পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সাব ইন্সপেক্টর খন্দকার আনোয়ার ও সহকারী সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নবীরের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মোঃ সাগরের সহযোগিতায়  বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর বেলা ১২ টার দিকে অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ দুই বালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করে শ্যামনগর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে অল্প সময়ের মধ্যে দুই সন্তানকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
‎