রাজাপুরে কষ্টার্জিত ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও স্ত্রীর পরকিয়া নিয়ে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন
- Update Time : ০৮:৫৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ১০ Time View

মোঃ কামরুল হাসান রানা:ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কঠোর পরিশ্রম করে তিল তিল করে গড়ে তোলা কষ্টার্জিত অর্থ, সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং স্ত্রী কর্তৃক পরকীয়া ও হয়রানির শিকার হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এক প্রবাসী। সম্প্রতি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজাপুরের আদাখোলা গ্রামের হাফেজ মাসুম বিল্লাহর ছেলে ও দুবাই প্রবাসী হাফেজ মোস্তফা কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রবাসী হাফেজ মোস্তফা জানান, তিনি ১৩ বছর ধরে দুবাইয়ে থেকে যে অর্থ উপার্জন করেছেন, তার প্রায় ৫১ লাখ টাকা রাজাপুর রূপালী ব্যাংকে থাকা তার নিজ হিসাব নম্বরে (১৪১৯৭) স্ত্রী জোলেখার কাছে বিভিন্ন সময়ে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তার স্ত্রী সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে না জানিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রবাসী মোস্তফা জানান, স্থানীয় মো. সাইফুলের সাথে তার স্ত্রী জোলেখার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দুবাই থেকে দেশে এসে স্ত্রীকে ওই যুবকের সাথে যোগাযোগ রাখতে নিষেধ করেন এবং পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করান। এরপর তিনি পুনরায় দুবাই চলে গেলে তার বড় ছেলে মাইনুল ইসলামের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তার স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে ওই সাইফুলের সাথে চলে গেছেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে মোহরানার টাকা দাবি করা হচ্ছে এবং তার প্রায় ১৩ শতক জমি জবরদখল করে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রবাসীর জমির পাশে বসবাসকারী মহারাজ মিয়া তার কাছে ১২ লাখ টাকায় জমি কেনার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও মহারাজ মিয়া প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে ১০-১২ জন লোক নিয়ে এসে প্রবাসীর ওপর হামলা ও মারধর করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নিজের জীবনের নিরাপত্তা এবং কষ্টের অর্জন ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংস্থা ও বিচার বিভাগের কাছে ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী হাফেজ মোস্তফা। তার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রবাসে অর্জিত ও দেশে পাঠানো প্রায় ৫১ লাখ টাকার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা। ব্যাংক হিসাব ও অর্থ লেনদেনের বিষয়টি যাচাই করা। জমি ও বাড়ির মালিকানা এবং দলিলসংক্রান্ত বিষয়গুলোর তদন্ত করে আইনি অধিকার নিশ্চিত করা। হামলা ও মারধরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। তার বিরুদ্ধে করা মামলা ও মোহরানা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর আইনানুগ নিস্পত্তি করা। প্রবাসী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি তার এই অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি ও ন্যায়বিচার পেতে দেশবাসী এবং প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




















