ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জৈষ্টপুরা উদয়ন সংঘের দুর্গাপূজায় বিশেষ আকর্ষণ “সীতার পাতাল গমন”

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৭ Time View
Print

মিলন বৈদ্য শুভ, (চট্টগ্রাম) :শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দর্শনার্থী ও ভক্তবৃন্দকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রণাম জানিয়েছে জৈষ্টপুরা উদয়ন সংঘ। প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন কিছু উপস্থাপনের ধারাবাহিকতায় সংগঠনটির বিশেষ আয়োজন ‘সীতার পাতাল গমন’। রামায়ণের হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনা অবলম্বনে সাজানো আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারীর আত্মসম্মান, মর্যাদা, ত্যাগ ও ন্যায়বিচারের বার্তা তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন আয়োজকেরা।

হিন্দু ধর্মীয় মহাকাব্য রামায়ণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দেবী সীতা। রামায়ণ অনুসারে, বিষ্ণুর সপ্তম অবতার শ্রীরাম ছিলেন অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রানি কৌশল্যার জ্যেষ্ঠ পুত্র। অন্যদিকে, মিথিলার রাজা জনক যজ্ঞের ভূমি প্রস্তুত করার সময় ধরিত্রীর বুক থেকে এক কন্যাশিশুকে লাভ করেন। ধরিত্রী থেকে প্রাপ্ত হওয়ায় তাঁর নাম রাখা হয় সীতা। রাজা জনকের স্নেহ-মমতায় রাজপ্রাসাদে বেড়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তীকালে অযোধ্যার রাজপুত্র শ্রীরামের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়।

কিন্তু তাঁদের দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে নানা প্রতিকূলতা। স্বামীর সঙ্গে বনবাস, রাবণের হাতে অপহরণ, অগ্নিপরীক্ষা এবং পরবর্তী জীবনে বিচ্ছেদ—জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে দেবী সীতাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নানা ত্যাগ ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় তাঁর জীবন।

রামায়ণের বর্ণনা অনুযায়ী, বাল্মীকির আশ্রমে লব ও কুশের জন্মের পর একসময় সীতা পুনরায় শ্রীরামের সভায় উপস্থিত হন। সেখানে আবারও নিজের সতীত্বের প্রমাণ দেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তিনি আর কোনো পরীক্ষা দিতে সম্মত হননি। বরং মাতা ধরিত্রীর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তাঁর আহ্বানে ধরিত্রী তাঁকে আপন কোলে গ্রহণ করেন। রামায়ণের এই মর্মস্পর্শী ঘটনাই ‘সীতার পাতাল গমন’ নামে পরিচিত।

দেবী সীতার জীবনকাহিনির মধ্য দিয়ে আয়োজকেরা সমাজে নারীর প্রতি সম্মান, বিশ্বাস ও মানবিক আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরতে চান। তাঁদের মতে, একজন নারীর আত্মসম্মান, মর্যাদা ও সত্যকে সম্মান করা সমাজের দায়িত্ব। অন্যায় সন্দেহের পরিবর্তে বিশ্বাস, অবহেলার পরিবর্তে সম্মান এবং বৈষম্যের পরিবর্তে মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের দুর্গোৎসবে দেবীকে মণ্ডপে পূজা করার পাশাপাশি প্রতিটি নারীর মধ্যেও দেবীশক্তি ও মর্যাদাকে সম্মান জানানোর অঙ্গীকার করবেন সবাই। নারীকে সম্মান করা এবং তাঁর অধিকার ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করাই হোক প্রকৃত শক্তির আরাধনা—এমন মানবিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে চায় জৈষ্টপুরা উদয়ন সংঘ।

অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন সংঘের প্রধান উপদেষ্টা ঝুন্টু চৌধুরী, সভাপতি আশুতোষ চৌধুরী, শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী এবং সাবেক সভাপতি গৌতম চৌধুরী, বাদল চৌধুরী ও রিন্টু চৌধুরী।

বক্তারা এবারের বিশেষ আয়োজন উপভোগ করার জন্য সকল ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীর প্রতি জৈষ্টপুরা উদয়ন সংঘের পক্ষ থেকে বিনীত আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ‘সীতার পাতাল গমন’ আয়োজনটি দর্শনার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিকে জাগ্রত করার পাশাপাশি নারীসম্মান, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

জৈষ্টপুরা উদয়ন সংঘের দুর্গাপূজায় বিশেষ আকর্ষণ “সীতার পাতাল গমন”

Update Time : ০৪:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
Print

মিলন বৈদ্য শুভ, (চট্টগ্রাম) :শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দর্শনার্থী ও ভক্তবৃন্দকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রণাম জানিয়েছে জৈষ্টপুরা উদয়ন সংঘ। প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন কিছু উপস্থাপনের ধারাবাহিকতায় সংগঠনটির বিশেষ আয়োজন ‘সীতার পাতাল গমন’। রামায়ণের হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনা অবলম্বনে সাজানো আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারীর আত্মসম্মান, মর্যাদা, ত্যাগ ও ন্যায়বিচারের বার্তা তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন আয়োজকেরা।

হিন্দু ধর্মীয় মহাকাব্য রামায়ণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দেবী সীতা। রামায়ণ অনুসারে, বিষ্ণুর সপ্তম অবতার শ্রীরাম ছিলেন অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রানি কৌশল্যার জ্যেষ্ঠ পুত্র। অন্যদিকে, মিথিলার রাজা জনক যজ্ঞের ভূমি প্রস্তুত করার সময় ধরিত্রীর বুক থেকে এক কন্যাশিশুকে লাভ করেন। ধরিত্রী থেকে প্রাপ্ত হওয়ায় তাঁর নাম রাখা হয় সীতা। রাজা জনকের স্নেহ-মমতায় রাজপ্রাসাদে বেড়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তীকালে অযোধ্যার রাজপুত্র শ্রীরামের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়।

কিন্তু তাঁদের দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে নানা প্রতিকূলতা। স্বামীর সঙ্গে বনবাস, রাবণের হাতে অপহরণ, অগ্নিপরীক্ষা এবং পরবর্তী জীবনে বিচ্ছেদ—জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে দেবী সীতাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নানা ত্যাগ ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় তাঁর জীবন।

রামায়ণের বর্ণনা অনুযায়ী, বাল্মীকির আশ্রমে লব ও কুশের জন্মের পর একসময় সীতা পুনরায় শ্রীরামের সভায় উপস্থিত হন। সেখানে আবারও নিজের সতীত্বের প্রমাণ দেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তিনি আর কোনো পরীক্ষা দিতে সম্মত হননি। বরং মাতা ধরিত্রীর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তাঁর আহ্বানে ধরিত্রী তাঁকে আপন কোলে গ্রহণ করেন। রামায়ণের এই মর্মস্পর্শী ঘটনাই ‘সীতার পাতাল গমন’ নামে পরিচিত।

দেবী সীতার জীবনকাহিনির মধ্য দিয়ে আয়োজকেরা সমাজে নারীর প্রতি সম্মান, বিশ্বাস ও মানবিক আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরতে চান। তাঁদের মতে, একজন নারীর আত্মসম্মান, মর্যাদা ও সত্যকে সম্মান করা সমাজের দায়িত্ব। অন্যায় সন্দেহের পরিবর্তে বিশ্বাস, অবহেলার পরিবর্তে সম্মান এবং বৈষম্যের পরিবর্তে মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের দুর্গোৎসবে দেবীকে মণ্ডপে পূজা করার পাশাপাশি প্রতিটি নারীর মধ্যেও দেবীশক্তি ও মর্যাদাকে সম্মান জানানোর অঙ্গীকার করবেন সবাই। নারীকে সম্মান করা এবং তাঁর অধিকার ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করাই হোক প্রকৃত শক্তির আরাধনা—এমন মানবিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে চায় জৈষ্টপুরা উদয়ন সংঘ।

অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন সংঘের প্রধান উপদেষ্টা ঝুন্টু চৌধুরী, সভাপতি আশুতোষ চৌধুরী, শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী এবং সাবেক সভাপতি গৌতম চৌধুরী, বাদল চৌধুরী ও রিন্টু চৌধুরী।

বক্তারা এবারের বিশেষ আয়োজন উপভোগ করার জন্য সকল ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীর প্রতি জৈষ্টপুরা উদয়ন সংঘের পক্ষ থেকে বিনীত আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ‘সীতার পাতাল গমন’ আয়োজনটি দর্শনার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিকে জাগ্রত করার পাশাপাশি নারীসম্মান, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।