👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুবির শিক্ষার্থী-পুলিশের ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ১২:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১ Time View
Print

শরীফুল ইসলাম,কুবি সংবাদদাতা:কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে উপাচার্যের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হককে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মো. মহিউদ্দিন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ এবং সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ছাদেক হোসেন মজুমদার।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনসংলগ্ন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরের পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ এলাকার কাছাকাছি স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশি করেন পুলিশ পরিচয় দেওয়া তিন ব্যক্তি। তাঁদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে ছিনতাইকারী সন্দেহে তাঁদের আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ এবং পুলিশের সোর্স জাহিদ। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি মীমাংসিত হয়েছে কি না, তা সব দিক বিবেচনায় এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং শিক্ষার্থীদের কোনো দায় রয়েছে কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণের জন্যই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রক্টর অফিস থেকে বৃহস্পতিবার ঘটনাটি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাসপাতালে গিয়েছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা পাওয়ায় সে অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

কুবির শিক্ষার্থী-পুলিশের ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি

Update Time : ১২:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
Print

শরীফুল ইসলাম,কুবি সংবাদদাতা:কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে উপাচার্যের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হককে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মো. মহিউদ্দিন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ এবং সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ছাদেক হোসেন মজুমদার।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনসংলগ্ন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরের পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ এলাকার কাছাকাছি স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশি করেন পুলিশ পরিচয় দেওয়া তিন ব্যক্তি। তাঁদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে ছিনতাইকারী সন্দেহে তাঁদের আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ এবং পুলিশের সোর্স জাহিদ। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি মীমাংসিত হয়েছে কি না, তা সব দিক বিবেচনায় এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং শিক্ষার্থীদের কোনো দায় রয়েছে কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণের জন্যই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রক্টর অফিস থেকে বৃহস্পতিবার ঘটনাটি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাসপাতালে গিয়েছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা পাওয়ায় সে অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।