ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাফিনকে ফের গ্রেফতার; নেপথ্যে বড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৮২ Time View
Print

রাসেল হোসেন,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসে অগ্নিসংযোগের মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান রাফিনকে এবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ছাত্র সমাজ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তজনা বিরাজ করছে।

গত রাতে ঝিনাইদহ শহরের নিজ এলাকা থেকে জিল্লুর রহমান রাফিনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, বাস টার্মিনালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের পুরনো একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মামলা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাইম রাফিনের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমে এক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন: “জিল্লুর রহমান রাফিনকে যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই ভুয়া মামলার নেপথ্যে একটি গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। মূলত জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ ‘যোদ্ধা নিরব’ হত্যা মামলাটি ধামাচাপা দিতেই ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতাদের এভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।”

তানাইম আরও অভিযোগ করেন যে, একটি কুচক্রী মহল প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিরব হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে রাফিনকে মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছে।

রাফিনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঝিনাইদহের সাধারণ ছাত্ররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তারা অবিলম্বে রাফিনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। ছাত্র নেতাদের মতে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য একটি গোষ্ঠী এখনো তৎপর রয়েছে এবং রাফিনের এই গ্রেপ্তার সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

বর্তমানে ঝিনাইদহ শহরের পরিস্থিতি থমথমে। ছাত্ররা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাফিনকে মুক্তি না দেওয়া হলে এবং জুলাই যোদ্ধা নিরব হত্যার প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা বন্ধ না হলে জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাফিনকে ফের গ্রেফতার; নেপথ্যে বড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

Update Time : ০৯:১৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
Print

রাসেল হোসেন,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসে অগ্নিসংযোগের মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান রাফিনকে এবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ছাত্র সমাজ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তজনা বিরাজ করছে।

গত রাতে ঝিনাইদহ শহরের নিজ এলাকা থেকে জিল্লুর রহমান রাফিনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, বাস টার্মিনালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের পুরনো একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মামলা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাইম রাফিনের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমে এক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন: “জিল্লুর রহমান রাফিনকে যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই ভুয়া মামলার নেপথ্যে একটি গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। মূলত জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ ‘যোদ্ধা নিরব’ হত্যা মামলাটি ধামাচাপা দিতেই ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতাদের এভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।”

তানাইম আরও অভিযোগ করেন যে, একটি কুচক্রী মহল প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিরব হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে রাফিনকে মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছে।

রাফিনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঝিনাইদহের সাধারণ ছাত্ররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তারা অবিলম্বে রাফিনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। ছাত্র নেতাদের মতে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য একটি গোষ্ঠী এখনো তৎপর রয়েছে এবং রাফিনের এই গ্রেপ্তার সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

বর্তমানে ঝিনাইদহ শহরের পরিস্থিতি থমথমে। ছাত্ররা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাফিনকে মুক্তি না দেওয়া হলে এবং জুলাই যোদ্ধা নিরব হত্যার প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা বন্ধ না হলে জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।