ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি প্রবাসীর কোটি টাকার সম্পত্তি দুই ভাইয়ের নামে হেবা! ‘আমাকে নাদাবী করার ষড়যন্ত্র’—সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / ৬৯ Time View
Print

হানিফ স্টাফ রিপোর্টার ফেনী।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের উপার্জনে নির্মিত বাড়ি ও জমি থেকে বঞ্চিত করার দাবি; নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা

সংবাদ সম্মেলনে সৌদি প্রবাসীর অভিযোগ: ‘নিজের টাকায় গড়া ঘর থেকেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে’

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরডুব্বা গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি আরব প্রবাসী আইয়ুব খান সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিনের প্রবাসজীবনের কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে তোলা বাড়ি ও সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করে তার পিতা সুজল হক পরিবারের অন্য দুই ছেলের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন। শুধু তাই নয়, তাকে সন্তান হিসেবে অস্বীকার বা ‘নাদাবী’ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।রবিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আইয়ুব খান বলেন, তিনি সুজল হক ও খতিজা খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বহু বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে কর্মরত অবস্থায় নিয়মিত তার উপার্জনের অর্থ দেশে পাঠাতেন।
তার দাবি, ওই অর্থ দিয়ে তার পিতা প্রায় ৪৫ শতক জমিসহ বিভিন্ন সম্পত্তি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে নিজের অর্থে তিনি তিন তলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট একটি ভবনের প্রথম তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন।
কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার পিতা নিজের নামে থাকা প্রায় ৯৪ শতক সম্পত্তি এবং তার বসবাসরত পাকা ভবনসহ অন্যান্য সম্পত্তি দুই ছেলে জয়নাল ও আলমগীরের নামে হেবা দলিলের মাধ্যমে লিখে দিয়েছেন।
আইয়ুব খানের অভিযোগ, সম্পত্তি হস্তান্তরের পর তার দুই ভাই বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেন। পরে তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম সোনাগাজী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে দেয়। এ সময় ঘরে থাকা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে আইয়ুব খান বলেন,
“আমি বিদেশে দিনরাত পরিশ্রম করে উপার্জন করেছি। সেই টাকায় ঘর নির্মাণ করেছি। অথচ আজ সেই ঘর ও সম্পত্তি অন্যদের নামে লিখে দেওয়া হয়েছে। এখন আবার আমাকে সন্তান হিসেবেও অস্বীকার করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন,
“যদি আমাকে সন্তান হিসেবে অস্বীকার করতেই হয়, তাহলে যেন প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকারি প্রক্রিয়ায় তা করা হয়। আমি সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার চাই।”
আইয়ুব খান জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে ফেনী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ মানবাধিকার ও আইনি সহায়তাদানকারী বিভিন্ন সংস্থার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুজল হক বা অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
(প্রতিবেদনটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্য ও অভিযোগকারীর দাবির ভিত্তিতে প্রস্তুত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।)

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সৌদি প্রবাসীর কোটি টাকার সম্পত্তি দুই ভাইয়ের নামে হেবা! ‘আমাকে নাদাবী করার ষড়যন্ত্র’—সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ

Update Time : ০৫:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Print

হানিফ স্টাফ রিপোর্টার ফেনী।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের উপার্জনে নির্মিত বাড়ি ও জমি থেকে বঞ্চিত করার দাবি; নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা

সংবাদ সম্মেলনে সৌদি প্রবাসীর অভিযোগ: ‘নিজের টাকায় গড়া ঘর থেকেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে’

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরডুব্বা গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি আরব প্রবাসী আইয়ুব খান সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিনের প্রবাসজীবনের কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে তোলা বাড়ি ও সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করে তার পিতা সুজল হক পরিবারের অন্য দুই ছেলের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন। শুধু তাই নয়, তাকে সন্তান হিসেবে অস্বীকার বা ‘নাদাবী’ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।রবিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আইয়ুব খান বলেন, তিনি সুজল হক ও খতিজা খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বহু বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে কর্মরত অবস্থায় নিয়মিত তার উপার্জনের অর্থ দেশে পাঠাতেন।
তার দাবি, ওই অর্থ দিয়ে তার পিতা প্রায় ৪৫ শতক জমিসহ বিভিন্ন সম্পত্তি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে নিজের অর্থে তিনি তিন তলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট একটি ভবনের প্রথম তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন।
কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার পিতা নিজের নামে থাকা প্রায় ৯৪ শতক সম্পত্তি এবং তার বসবাসরত পাকা ভবনসহ অন্যান্য সম্পত্তি দুই ছেলে জয়নাল ও আলমগীরের নামে হেবা দলিলের মাধ্যমে লিখে দিয়েছেন।
আইয়ুব খানের অভিযোগ, সম্পত্তি হস্তান্তরের পর তার দুই ভাই বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেন। পরে তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম সোনাগাজী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে দেয়। এ সময় ঘরে থাকা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে আইয়ুব খান বলেন,
“আমি বিদেশে দিনরাত পরিশ্রম করে উপার্জন করেছি। সেই টাকায় ঘর নির্মাণ করেছি। অথচ আজ সেই ঘর ও সম্পত্তি অন্যদের নামে লিখে দেওয়া হয়েছে। এখন আবার আমাকে সন্তান হিসেবেও অস্বীকার করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন,
“যদি আমাকে সন্তান হিসেবে অস্বীকার করতেই হয়, তাহলে যেন প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকারি প্রক্রিয়ায় তা করা হয়। আমি সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার চাই।”
আইয়ুব খান জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে ফেনী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ মানবাধিকার ও আইনি সহায়তাদানকারী বিভিন্ন সংস্থার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুজল হক বা অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
(প্রতিবেদনটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্য ও অভিযোগকারীর দাবির ভিত্তিতে প্রস্তুত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।)