ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনাগাজীর বাংলাবাজার জয়নাল আবেদীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুঃসাহসিক চুরি

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮ Time View
Print

মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্টার সোনাগাজী ফেনী।

রাতের আঁধারে দরজার তালা ভেঙে ৬০ গজ বৈদ্যুতিক তার ও সরঞ্জাম লুট, ভেঙে নেওয়া হয়েছে বাউন্ডারি ওয়ালের গ্রিল; বিদ্যুৎহীন বিদ্যালয়ে চরম দুর্ভোগ

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর গ্রামের দাসপাড়ায় অবস্থিত বাংলাবাজার জয়নাল আবেদীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড, প্রায় ৬০ গজ বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, নেশার অর্থ জোগাড় করতে মাদকসেবী চোরচক্র এ চুরির ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। সম্প্রতি এলাকায় ছোটখাটো চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার জানান, বিদ্যালয়ে কোনো পিয়ন বা নৈশপ্রহরী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। এ সুযোগে প্রায়ই ছোটখাটো চুরি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ঘটনায় দুর্বৃত্তরা বৈদ্যুতিক তার ও সরঞ্জাম চুরির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের গ্রিলও খুলে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জয়নাল আবেদীন বলেন, “হিন্দু অধ্যুষিত একটি দরিদ্র এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এলাকার মানুষের সম্পদ। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এদিকে বিদ্যালয় পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষকের তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া পিয়ন ও নৈশপ্রহরীর কোনো পদে কর্মরত ব্যক্তি না থাকায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত নৈশপ্রহরী নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সোনাগাজীর বাংলাবাজার জয়নাল আবেদীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুঃসাহসিক চুরি

Update Time : ০৬:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Print

মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্টার সোনাগাজী ফেনী।

রাতের আঁধারে দরজার তালা ভেঙে ৬০ গজ বৈদ্যুতিক তার ও সরঞ্জাম লুট, ভেঙে নেওয়া হয়েছে বাউন্ডারি ওয়ালের গ্রিল; বিদ্যুৎহীন বিদ্যালয়ে চরম দুর্ভোগ

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর গ্রামের দাসপাড়ায় অবস্থিত বাংলাবাজার জয়নাল আবেদীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড, প্রায় ৬০ গজ বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, নেশার অর্থ জোগাড় করতে মাদকসেবী চোরচক্র এ চুরির ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। সম্প্রতি এলাকায় ছোটখাটো চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার জানান, বিদ্যালয়ে কোনো পিয়ন বা নৈশপ্রহরী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। এ সুযোগে প্রায়ই ছোটখাটো চুরি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ঘটনায় দুর্বৃত্তরা বৈদ্যুতিক তার ও সরঞ্জাম চুরির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের গ্রিলও খুলে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জয়নাল আবেদীন বলেন, “হিন্দু অধ্যুষিত একটি দরিদ্র এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এলাকার মানুষের সম্পদ। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এদিকে বিদ্যালয় পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষকের তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া পিয়ন ও নৈশপ্রহরীর কোনো পদে কর্মরত ব্যক্তি না থাকায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত নৈশপ্রহরী নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।