ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর চৌগাছার অস্ত্র ও চাঁদাবাজির ‘মুকুটহীন সম্রাট’ হিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৭ Time View
Print

যশোর জেলা প্রতিনিধি:যশোরের চৌগাছায় সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাস ও আতঙ্কের অপর নাম, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ এক ডজন মামলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিরাকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সোমবার দুপুরে ডিবির বিচক্ষণ ও দক্ষ কর্মকর্তা এসআই সামিউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় অত্যন্ত চতুরতার সাথে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

তার আটকের পরই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অপরাধের এমন কোনো জগত নেই যা তার হাতের ছোঁয়া থেকে মুক্ত ছিল। অস্ত্র ব্যবসা থেকে শুরু করে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করত সে। এর পাশাপাশি ব্ল্যাকমেইল বা ‘হানি ট্রাপ’-এর মতো অপরাধেও তার জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃত হিরা চৌগাছা পৌরসভার বিশ্বাসপাড়া এলাকার শফিয়ার রহমানের ছেলে।

এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ জানান, আটক হিরার বিরুদ্ধে মোট ১২টি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২টি অস্ত্র মামলা, ৩টি মাদক মামলা এবং একাধিক চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন এসব মামলার তদন্ত ও হিরার ক্যাডার বাহিনীর অন্য সদস্যদের ধরতে চৌগাছা থানার পুলিশ ও ডিবির টিম যৌথভাবে মাঠে কাজ করছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চৌগাছা পৌরসভার সাবেক মেয়র আল মামুন হিমেলের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে হিরা ঘের দখল ও চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সে দমে যায়নি। সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলামের নাম ভাঙিয়ে সে পুনরায় এলাকাটিতে নিজের পুরনো অপরাধের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছিল। অপরাধীদের এমন বারবার রাজনৈতিক আশ্রয় বদলানোর কৌশলকে স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

চৌগাছার এই ত্রাস ডিবির হাতে ধরা পড়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও আতঙ্ক কেটে গিয়ে চরম স্বস্তি ফিরে এসেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সামিউলের কৌশলগত দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় জনবহুল এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এই বিপজ্জনক আসামিকে কব্জা করায় সর্বস্তরের জনগণ ডিবি পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

শুধু হিরাকেই নয়, তার পুরো অপরাধ সিন্ডিকেট এবং নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে পারলে চৌগাছায় স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

যশোর চৌগাছার অস্ত্র ও চাঁদাবাজির ‘মুকুটহীন সম্রাট’ হিরা

Update Time : ০৭:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

যশোর জেলা প্রতিনিধি:যশোরের চৌগাছায় সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাস ও আতঙ্কের অপর নাম, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ এক ডজন মামলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিরাকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সোমবার দুপুরে ডিবির বিচক্ষণ ও দক্ষ কর্মকর্তা এসআই সামিউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় অত্যন্ত চতুরতার সাথে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

তার আটকের পরই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অপরাধের এমন কোনো জগত নেই যা তার হাতের ছোঁয়া থেকে মুক্ত ছিল। অস্ত্র ব্যবসা থেকে শুরু করে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করত সে। এর পাশাপাশি ব্ল্যাকমেইল বা ‘হানি ট্রাপ’-এর মতো অপরাধেও তার জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃত হিরা চৌগাছা পৌরসভার বিশ্বাসপাড়া এলাকার শফিয়ার রহমানের ছেলে।

এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ জানান, আটক হিরার বিরুদ্ধে মোট ১২টি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২টি অস্ত্র মামলা, ৩টি মাদক মামলা এবং একাধিক চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন এসব মামলার তদন্ত ও হিরার ক্যাডার বাহিনীর অন্য সদস্যদের ধরতে চৌগাছা থানার পুলিশ ও ডিবির টিম যৌথভাবে মাঠে কাজ করছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চৌগাছা পৌরসভার সাবেক মেয়র আল মামুন হিমেলের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে হিরা ঘের দখল ও চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সে দমে যায়নি। সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলামের নাম ভাঙিয়ে সে পুনরায় এলাকাটিতে নিজের পুরনো অপরাধের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছিল। অপরাধীদের এমন বারবার রাজনৈতিক আশ্রয় বদলানোর কৌশলকে স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

চৌগাছার এই ত্রাস ডিবির হাতে ধরা পড়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও আতঙ্ক কেটে গিয়ে চরম স্বস্তি ফিরে এসেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সামিউলের কৌশলগত দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় জনবহুল এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এই বিপজ্জনক আসামিকে কব্জা করায় সর্বস্তরের জনগণ ডিবি পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

শুধু হিরাকেই নয়, তার পুরো অপরাধ সিন্ডিকেট এবং নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে পারলে চৌগাছায় স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।