বোচাগঞ্জে পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগে ২২ জনের নামে মামলা
- Update Time : ০৯:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৩ Time View

মোঃ আবু তাহের ইসলাম:
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে পিএইচপি আম বাগানের পাশে টাঙ্গন নদী হতে অবৈধ ভাবে সরকারী বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিক্তিতে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ বালু মহলে উপস্থিত হলে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনকারীদের সাথে পুলিশের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করায় এসআই মো. শামীম আকতার সরকার বাদি হয়ে মোঃ মহসীন আলী (৪২), মোঃ মনির হোসেন (৪৩) মোঃ বিপ্লব হোসেন (৩৮), মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩৯) সহ ২২ জনের নাম উল্লেখ ও ৪০/৫০জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে।
১৭ এপ্রিল শুক্রবার বিকালে মামলার এজাহারে জানা যায়, পিএইচপি নামক আমবাগানের পাশে অবৈধ বালু ভর্তি ০২টি ট্রাক্টর ও ট্রাক্টর এর মালিক কে আটক করে পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় লোকজন আটককৃত ট্রাক্টর ও আটককৃত ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসতে বাঁধা প্রদান করে। বোচাগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান কে উক্ত বিষয়ে বর্ণিত অফিসার-ফোর্সকে সহযোগিতা প্রদান পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাকে নির্দেশ প্রদান করেন। অফিসার ইনচার্জ এর নির্দেশক্রমে আটককৃত অবৈধ বালুভর্তি ট্রাক্টর ০২টি জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করার প্রস্তুতি গ্রহণ কালে ০১নং আসামী হুকুমে বর্নিত আসামীগণ সহ অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০ জন ঘটনাস্থলে হৈ-হুল্লোড় ও মব সৃষ্টি করে ঘটনাস্থলে রাখা এএসআই (নিঃ)/মোঃ আলমগীর সরকার এর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এর বাম পাশের লুকিং গ্লাাস ভাংচুর করে এবং এএসআই(নিঃ)/মোঃ কাওছার আলী এর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এর লুকিং গ্লাস ভাংচুর করে। তখন উপস্থিত সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মব সৃষ্টি না করার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও উপরোক্ত আসামীগণ সহ অজ্ঞাতনামা আসামীগণ ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে এবং আমাকে সহ আমার সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্সদের ধাক্কা দিয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করার জন্য রক্তচক্ষু প্রদর্শন করতে থাকে। বর্ণিত আসামীগণের তোপের মুখে আমি জব্দ তালিকা প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হই। বিষয়টি তাৎক্ষণিক অফিসার ইনচার্জ অবহিত করলে তিনি আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আরো পুলিশ ফোর্স প্রেরন করে।
পরবর্তীতে তিনি নিজেও আরো সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্সসহ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। উক্ত অফিসার ও ফোর্সগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অতিরিক্ত অফিসার-ফোর্স দেখতে পেয়ে বর্ণিত আসামীগণ সহ অজ্ঞাতনামা আসামীগণ উত্তেজিত হয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ করার জন্য উদ্যত হয়। এক পর্যায়ে আসামীগণ একে অপরের সহযোগিতায় আটককৃত অবৈধ বালুভর্তি ট্রাক্টর ০২টি এবং ট্রাক্টর এর মালিক ০১নং আসামীকে পুলিশি হেফাজত হইতে ছিনাইয়া নেয় এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদান সহ পুলিশকে প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে ট্রাক্টর ০২টি এবং ০১নং আসামীকে নিয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশের সহিত আক্রমণাত্মক আচরণ করা সহ মোটরসাইকেল ভাংচুর করে ক্ষতিসাধন, পুলিশকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান এবং হুকুমদান করায় ১৮৬০ সালের পেনাল কোড আইনের ১৪৩/৩৪১/১৮৬/৩৩২/৩৫৩/৪২৭/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে মর্মে বর্ণিত আসামীগণের কৃত অপরাধ সংক্রান্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহিত আলোচনা করে এজাহার দায়ের করা হইল।



















