নির্বাচনী গণসংযোগে গুলিতে নিহত সরোয়ার হত্যার এক বছর,এখনো অধরা মূল হামলাকারী
- Update Time : ০২:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ২৫ Time View

জসীমউদ্দিন,মানিকছড়ি:চট্টগ্রাম নগরীতে বিএনপির নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলি করে সরোয়ার হোসেনকে হত্যার ঘটনায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শনাক্ত হয়নি মূল হামলাকারী। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ঘটনার রহস্য পুরোপুরি উদ্ঘাটিত না হওয়ায় হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে স্বজনদের মধ্যে।
ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ৫ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায়। ওই সময় বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী গণসংযোগ চলছিল। কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে স্লোগান এবং প্রচারপত্র বিতরণের মধ্যেই হঠাৎ কয়েকটি গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ভিড়ের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি সরোয়ারকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে পরপর তিনটি গুলি ছোড়ে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এরশাদ উল্লাহসহ আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
নিহত সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। অন্যদিকে, ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ এরশাদ উল্লাহ বর্তমানে চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং নগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল শুটারকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় করা মামলায় ৩৯ জন গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেলেও মূল হামলাকারীর পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে এখনো রয়েছে প্রশ্ন।
পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে পারিবারিক সূত্রের ধারণা, ব্যক্তিগত বিরোধের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক বিরোধও থাকতে পারে।
প্রকাশ্য জনসমাগমে এমন একটি হত্যাকাণ্ডের পরও মূল হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্বজনদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
























