ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে ওসির বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুমের নাটক সাজিয়ে অর্থ আত্নসাৎ চেষ্টার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮ Time View
Print

রাসেল হোসেন ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামানের বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুমের নাটক সাজিয়ে হয়রানি এবং ব্যবসায়িক পাওনা ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত মিরাজ জামান রাজ নামে এক ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক।
অভিযোগপত্রে মিরাজ জামান রাজ উল্লেখ করেন,গত ৩ আগস্ট নতুন হাটখোলার ব্যবসায়ী লিমন সাহার কাছে তার ও তার এক আত্মীয়ের দীর্ঘদিনের পাওনা ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য তাকে হামদহ এলাকার তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেকে আনা হয়। সেখানে আলোচনার পর লিমন সাহা তিন মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করবেন মর্মে একটি চুক্তিপত্র করে সেখান থেকে চলে যান।
অভিযোগে বলা হয়,ওইদিন সন্ধ্যার পর ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান সরকারি নম্বর থেকে তাকে ফোন করে লিমন সাহাকে নিয়ে থানায় যেতে বলেন-অন্যথায় তাকে থানায় তুলে আনা হবে। থানায় গেলে ওসি তাকে জানান,লিমনের ভাই অমিত সাহা অপহরণ ও গুমের অভিযোগ করেছেন। টাকা পরিশোধের চুক্তিপত্রের স্ট্যাম্পটি দিলে লিমন থানায় হাজির হবে, তা না হলে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও তাকে জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন মিরাজ।

মিরাজ জামান রাজের দাবি,এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র বিভিন্ন ধারার কথা বলে তাকে ভয়ভীতি দেখান। মিরাজ থানার কর্মকর্তাদের লিমনের মোবাইল ফোন সচল রয়েছে এবং তাকে ট্র্যাক করলে অবস্থান জানা যাবে বলে জানান। এরপরও তাকে প্রায় চার ঘণ্টা থানায় আটকে রেখে পাওনা টাকার চুক্তিপত্রের স্ট্যাম্প নিয়ে আসতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়,পরে ওসির সঙ্গে কথা বলার পর আশ্বস্ত হয়ে তিনি পাওনা টাকার স্ট্যাম্পটি থানায় দেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে থানা থেকে বের হন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অপহরণের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই লিটনকে।

মিরাজের অভিযোগ,পরদিন থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে লিমন সাহার পক্ষ থেকে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এমনকি লিমন সাহাকে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতেও দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিটনকে জানালে তিনি লিমনকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান এবং তাকে মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও বলেন, পরে লোকমুখে জানতে পারেন এসআই লিটন লিমন সাহাকে থানায় ডেকে নিয়ে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করলেও এসআই লিটন ফোন ধরেননি বা পরে যোগাযোগ করেননি। থানার ওসি ও এসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিরাজ জামান রাজ অভিযোগ করেন, পুরো অপহরণ ও গুমের ঘটনা সাজানো এবং এর মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক পাওনা ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার পাওনা টাকার চুক্তিপত্রও থানা কর্তৃপক্ষ ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগকারী মিরাজ জামান রাজ বলেন,’আমার পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে বলে আমি মনে করছি। আমাকে থানায় আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং পাওনা টাকার চুক্তিপত্র নেওয়া হয়েছে। শুধু এই ঘটনায় নয়,এভাবেই তিনি থানায় টাকার বিনিময়ে শালিস বানিজ্য করেন। ইতোপূর্বে একাধিক অপকর্মের দায়ে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ হন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

লিমন সাহার অপহরণ ও গুমের ঘটনায় অভিযোগ বা যোগসাজশের বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আসাদউজ্জামান বলেন,এঘটনায় আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। মিরাজ জামান রাজের কাছ থেকে স্ট্যাম্প উদ্ধারের পরদিনই অপহৃত ব্যক্তি থানায় হাজির হয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিটনের সাথে দেখা করে গেছেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া আশিস বিন হাছান বলেন,‘অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ঝিনাইদহে ওসির বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুমের নাটক সাজিয়ে অর্থ আত্নসাৎ চেষ্টার অভিযোগ

Update Time : ০৭:২১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Print

রাসেল হোসেন ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামানের বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুমের নাটক সাজিয়ে হয়রানি এবং ব্যবসায়িক পাওনা ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত মিরাজ জামান রাজ নামে এক ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক।
অভিযোগপত্রে মিরাজ জামান রাজ উল্লেখ করেন,গত ৩ আগস্ট নতুন হাটখোলার ব্যবসায়ী লিমন সাহার কাছে তার ও তার এক আত্মীয়ের দীর্ঘদিনের পাওনা ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য তাকে হামদহ এলাকার তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেকে আনা হয়। সেখানে আলোচনার পর লিমন সাহা তিন মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করবেন মর্মে একটি চুক্তিপত্র করে সেখান থেকে চলে যান।
অভিযোগে বলা হয়,ওইদিন সন্ধ্যার পর ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান সরকারি নম্বর থেকে তাকে ফোন করে লিমন সাহাকে নিয়ে থানায় যেতে বলেন-অন্যথায় তাকে থানায় তুলে আনা হবে। থানায় গেলে ওসি তাকে জানান,লিমনের ভাই অমিত সাহা অপহরণ ও গুমের অভিযোগ করেছেন। টাকা পরিশোধের চুক্তিপত্রের স্ট্যাম্পটি দিলে লিমন থানায় হাজির হবে, তা না হলে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও তাকে জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন মিরাজ।

মিরাজ জামান রাজের দাবি,এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র বিভিন্ন ধারার কথা বলে তাকে ভয়ভীতি দেখান। মিরাজ থানার কর্মকর্তাদের লিমনের মোবাইল ফোন সচল রয়েছে এবং তাকে ট্র্যাক করলে অবস্থান জানা যাবে বলে জানান। এরপরও তাকে প্রায় চার ঘণ্টা থানায় আটকে রেখে পাওনা টাকার চুক্তিপত্রের স্ট্যাম্প নিয়ে আসতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়,পরে ওসির সঙ্গে কথা বলার পর আশ্বস্ত হয়ে তিনি পাওনা টাকার স্ট্যাম্পটি থানায় দেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে থানা থেকে বের হন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অপহরণের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই লিটনকে।

মিরাজের অভিযোগ,পরদিন থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে লিমন সাহার পক্ষ থেকে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এমনকি লিমন সাহাকে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতেও দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিটনকে জানালে তিনি লিমনকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান এবং তাকে মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও বলেন, পরে লোকমুখে জানতে পারেন এসআই লিটন লিমন সাহাকে থানায় ডেকে নিয়ে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করলেও এসআই লিটন ফোন ধরেননি বা পরে যোগাযোগ করেননি। থানার ওসি ও এসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিরাজ জামান রাজ অভিযোগ করেন, পুরো অপহরণ ও গুমের ঘটনা সাজানো এবং এর মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক পাওনা ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার পাওনা টাকার চুক্তিপত্রও থানা কর্তৃপক্ষ ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগকারী মিরাজ জামান রাজ বলেন,’আমার পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে বলে আমি মনে করছি। আমাকে থানায় আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং পাওনা টাকার চুক্তিপত্র নেওয়া হয়েছে। শুধু এই ঘটনায় নয়,এভাবেই তিনি থানায় টাকার বিনিময়ে শালিস বানিজ্য করেন। ইতোপূর্বে একাধিক অপকর্মের দায়ে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ হন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

লিমন সাহার অপহরণ ও গুমের ঘটনায় অভিযোগ বা যোগসাজশের বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আসাদউজ্জামান বলেন,এঘটনায় আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। মিরাজ জামান রাজের কাছ থেকে স্ট্যাম্প উদ্ধারের পরদিনই অপহৃত ব্যক্তি থানায় হাজির হয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিটনের সাথে দেখা করে গেছেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া আশিস বিন হাছান বলেন,‘অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।