জাপানের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে রাজাপুরের গর্বিত সন্তান -ইলিয়াস ফরহাদ প্রিন্স ও তার প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ।
- Update Time : ০৮:৪১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩০ Time View

মোঃ কামরুল হাসান রানা ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি। জাপানের টোকিও বিগ সাইটে শুরু হয়েছে ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও (অটাম) ২০২৬। মেলায় বাংলাদেশের পোশাক, গৃহসজ্জার বস্ত্র ও চামড়াজাত পণ্যের সক্ষমতা তুলে ধরতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সহায়তায় ২৫টি প্রতিষ্ঠান ২৭টি বুথ নিয়ে অংশ নিয়েছে। এর বাইরে আরও পাঁচটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মেলায় অংশ নিয়েছে।উক্ত অনুষ্ঠানে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গর্বিত সন্তান -ইলিয়াস ফরহাদ প্রিন্স ও তার প্রতিষ্ঠান।
মেলা উপলক্ষে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন এবং বাংলাদেশ: পোশাক, গৃহসজ্জার বস্ত্র ও চামড়াজাত পণ্যের উৎকৃষ্ট উৎস শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রদর্শিত বাংলাদেশি পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য নিয়ে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন শেষে টোকিও বিগ সাইটের প্রদর্শনী হলে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সহযোগিতায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাপানের আমদানিকারক, বিনিয়োগকারী, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, বাংলাদেশ শুধু উৎপাদনকারী দেশ নয়, জাপানি ব্যবসার জন্য নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহ ও বিনিয়োগের অংশীদার। পোশাক, বস্ত্র, চামড়া ও পাদুকা, ওষুধ, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, দক্ষ ও তরুণ কর্মীবাহিনী এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনামের সঙ্গে পণ্য রপ্তানি করছে।
তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এ খাত থেকে বছরে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়। ইউনিক্লো, এইচঅ্যান্ডএম, জারা ও ওয়ালমার্টের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশগত ও সামাজিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এগিয়ে রয়েছে। দেশে ২৩০টির বেশি পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা আন্তর্জাতিক লিড সনদ পেয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সংখ্যা।
রাষ্ট্রদূত চামড়া ও পাদুকা খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, তৈরি পোশাকের পর এটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি খাত। এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতের রপ্তানি ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

























