ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ

ডেক্স নিউজ
  • Update Time : ০১:২৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৩ Time View
Print

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে—’মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। এই প্রতিপাদ্যে সাক্ষরতাকে কেবল পড়া, লেখা বা গণনার মৌলিক সক্ষমতার মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশগত দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে সাক্ষরতা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হলেও এখনও একটি বড় জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাগত সুযোগের বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষাবঞ্চিত বয়স্ক নারী-পুরুষকে কেবল প্রথাগত বর্ণমালা চেনার সীমানায় না রেখে প্রয়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং স্বাগত বক্তব্য দেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত। সভায় বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরাও বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এছাড়া জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সমন্বয়ে আলোচনা সভা ও বিশেষ উদযাপন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়েও আলোচনা সভা, র্যালি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধ গড়ার লক্ষ্যে ইউনেস্কো ১৯৬৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ

Update Time : ০১:২৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে—’মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। এই প্রতিপাদ্যে সাক্ষরতাকে কেবল পড়া, লেখা বা গণনার মৌলিক সক্ষমতার মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশগত দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে সাক্ষরতা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হলেও এখনও একটি বড় জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাগত সুযোগের বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষাবঞ্চিত বয়স্ক নারী-পুরুষকে কেবল প্রথাগত বর্ণমালা চেনার সীমানায় না রেখে প্রয়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং স্বাগত বক্তব্য দেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত। সভায় বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরাও বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এছাড়া জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সমন্বয়ে আলোচনা সভা ও বিশেষ উদযাপন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়েও আলোচনা সভা, র্যালি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধ গড়ার লক্ষ্যে ইউনেস্কো ১৯৬৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।