ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুকিপূর্ণ ভবন ও কাদাময় পথ দুর্ভোগ শিক্ষার্থীদের

মুহসিন
  • Update Time : ০৪:০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫ Time View
Print

কালিগঞ্জ সদরে এম খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও কাদাময় পথে দুর্ভোগে ১৬০ শিক্ষার্থী।

মোঃ মহাসিন, খুলনা বিভাগীয়, প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ১০৩ নম্বর কালিগঞ্জ সদর এম খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ১৬০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি আশানুরূপ। জরাজীর্ণ ভবন ও কাদাময় যাতায়াতের পথ নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে ভেতরে যাওয়ার পথটি কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটলও দেখা গেছে। তবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কারিগরি মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের জমি মাত্র পাঁচ শতাংশ। প্রধান শিক্ষক গঙ্গা সরকার জানান, জায়গা সংকটের কারণে চলাচলের পথ ও নতুন ভবন নির্মাণে সমস্যা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক আরিজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের জমি মাত্র পাঁচ শতাংশ। এ কারণে বারবার বাজেট এসে ফিরে যায়।”

সহকারী শিক্ষক হাসিব মেহেদী হাসান জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কয়েকবার বাজেট এলেও পরবর্তীতে তা বাতিল হয়ে যায়।
এদিকে পাশের কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্র বাঁচাড় বলেন, স্থায়ী সড়ক করার সুযোগ নেই। তবে অস্থায়ীভাবে ইট সোলিং করে পথ তৈরি করলে আপত্তি নেই। মাঠের দক্ষিণ পাশ দিয়ে চলাচলেও তাদের আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে কিছু অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করছেন।

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, “কালিগঞ্জ সদরে এমন জরাজীর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, এটি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি এই প্রথম শুনলাম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব।”

উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাসও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিদ্যালয়ের ভবন ও যাতায়াতের পথের স্থায়ী সমাধান করা

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

কালিগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুকিপূর্ণ ভবন ও কাদাময় পথ দুর্ভোগ শিক্ষার্থীদের

Update Time : ০৪:০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
Print

কালিগঞ্জ সদরে এম খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও কাদাময় পথে দুর্ভোগে ১৬০ শিক্ষার্থী।

মোঃ মহাসিন, খুলনা বিভাগীয়, প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ১০৩ নম্বর কালিগঞ্জ সদর এম খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ১৬০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি আশানুরূপ। জরাজীর্ণ ভবন ও কাদাময় যাতায়াতের পথ নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে ভেতরে যাওয়ার পথটি কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটলও দেখা গেছে। তবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কারিগরি মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের জমি মাত্র পাঁচ শতাংশ। প্রধান শিক্ষক গঙ্গা সরকার জানান, জায়গা সংকটের কারণে চলাচলের পথ ও নতুন ভবন নির্মাণে সমস্যা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক আরিজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের জমি মাত্র পাঁচ শতাংশ। এ কারণে বারবার বাজেট এসে ফিরে যায়।”

সহকারী শিক্ষক হাসিব মেহেদী হাসান জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কয়েকবার বাজেট এলেও পরবর্তীতে তা বাতিল হয়ে যায়।
এদিকে পাশের কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্র বাঁচাড় বলেন, স্থায়ী সড়ক করার সুযোগ নেই। তবে অস্থায়ীভাবে ইট সোলিং করে পথ তৈরি করলে আপত্তি নেই। মাঠের দক্ষিণ পাশ দিয়ে চলাচলেও তাদের আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে কিছু অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করছেন।

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, “কালিগঞ্জ সদরে এমন জরাজীর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, এটি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি এই প্রথম শুনলাম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব।”

উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাসও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিদ্যালয়ের ভবন ও যাতায়াতের পথের স্থায়ী সমাধান করা