যশোরে বটি দিয়ে গলা কেটে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন করল কলেজশিক্ষক ছেলে
- Update Time : ১০:২২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫ Time View

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে পারিবারিক অশান্তির জের ধরে বটি দিয়ে গলা কেটে মা আনোয়ারা বেগমের (৫৮) মাথা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন কলেজশিক্ষক ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে এই লোমহর্ষক হত্যার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে। তবে পুলিশের ভাষ্য, তাকে আটক করা যায়নি।
নিহত আনোয়ারা বেগম বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুন দুটি বিয়ে করেছিলেন। ৮/৯ বছর আগে তিনি সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেন। কিন্তু স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় তিনি মিথিলাকে তালাক দেন।
এরপর বিয়ে করেন ঝিকরগাছা উপজেলার অমৃতবাজার গ্রামের রিনাকে। বছর ছয়েক আগে রিনা তাকে তালাক দিয়ে চলে যান। উভয় স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য কলহের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর এ জন্য মামুন তার মাকে দায়ী মনে করতেন। এ নিয়ে এর আগেও মায়ের সাথে তার গোলাযোগ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় ৩ বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি ২/৩ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের দাবি, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাজে দুর্গাপুর গ্রামের বাড়িতে থাকতেন না। প্রায় পাঁচ বছর পর বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে আসেন। এরপর তার মাকে হত্যা করেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে এসে মায়ের সাথে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে তার মাকে মাটিতে ফেলে ধারালো বটি দিয়ে গলায় আঘাত করেন। এতে আনোয়ারার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরই মধ্যে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মামুন বটি ফেলে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজনের দাবি, পুলিশ অভিযুক্ত মামুনকে আটক করেছে।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মাসুম খান জানান, তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন, স্ত্রী সংক্রান্ত পারিবারিক অশান্তির জেরে মাকে হত্যা করেছেন মামুন। তিনি বলেন, মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তবে তাকে আটকের কথা অস্বীকার করেছেন ওসি।
কোতয়ালি থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন অভিযুক্ত মামুনকে আটকের খবর সত্য নয় বলে দাবি করেছেন । তিনি বলেন, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

























