ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগৈলঝাড়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় আসামিদের জামিন না দেওয়ার দাবি বাদীপক্ষের

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫ Time View
Print

মোঃ সোহেল রানা বরিশাল জেলা প্রতিনিধি: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের দাবিতে মারধর, গুরুতর জখম ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় আসামিদের জামিন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাদীপক্ষ। বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাদী ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বড় বাশাইল গ্রামের মোছা. সুপ্তি আক্তার (২৫) বাদী হয়ে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি এমপি ও নারী-শিশু মামলা নং ৩৬৮/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে শাহাদাত ফকির (২৭), পিতা মনিরুজ্জামান ফকির; কামরুল ফকির (৫০); মনিরুজ্জামান ফকির (৪৫), পিতা মোখলেস ফকির; শাহারুল (৩০), পিতা মনিরুজ্জামান ফকির এবং বিলকিস (৪৩), স্বামী মনিরুজ্জামান ফকিরকে।
মামলার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।বাদীপক্ষের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে আসামিরা সুপ্তি আক্তারকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। এতে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, ঘটনার পর আইনগত প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও আসামিরা জামিনে মুক্ত হলে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। এতে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি তাদের।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত ২৩ আগস্ট মামলার আসামিরা বরিশালের বিজ্ঞ আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলার ১ নম্বর আসামি শাহাদাত ফকিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। অপর আসামি কামরুল ফকির, মনিরুজ্জামান ফকির, শাহারুল ও বিলকিসের জামিন মঞ্জুর করা হয়।
বাদী সুপ্তি আক্তারের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামলার আসামি কামরুল ফকির তাকে মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।বাদীপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ১ নম্বর আসামি শাহাদাত ফকিরের জামিন যেন মঞ্জুর করা না হয়। একই সঙ্গে জামিনে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে বাদীকে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।তবে মামলায় বাদীপক্ষের আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে মামলার আসামিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী আসামিদের নির্দোষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

আগৈলঝাড়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় আসামিদের জামিন না দেওয়ার দাবি বাদীপক্ষের

Update Time : ০৯:২৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
Print

মোঃ সোহেল রানা বরিশাল জেলা প্রতিনিধি: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের দাবিতে মারধর, গুরুতর জখম ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় আসামিদের জামিন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাদীপক্ষ। বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাদী ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বড় বাশাইল গ্রামের মোছা. সুপ্তি আক্তার (২৫) বাদী হয়ে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি এমপি ও নারী-শিশু মামলা নং ৩৬৮/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে শাহাদাত ফকির (২৭), পিতা মনিরুজ্জামান ফকির; কামরুল ফকির (৫০); মনিরুজ্জামান ফকির (৪৫), পিতা মোখলেস ফকির; শাহারুল (৩০), পিতা মনিরুজ্জামান ফকির এবং বিলকিস (৪৩), স্বামী মনিরুজ্জামান ফকিরকে।
মামলার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।বাদীপক্ষের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে আসামিরা সুপ্তি আক্তারকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। এতে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, ঘটনার পর আইনগত প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও আসামিরা জামিনে মুক্ত হলে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। এতে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি তাদের।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত ২৩ আগস্ট মামলার আসামিরা বরিশালের বিজ্ঞ আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলার ১ নম্বর আসামি শাহাদাত ফকিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। অপর আসামি কামরুল ফকির, মনিরুজ্জামান ফকির, শাহারুল ও বিলকিসের জামিন মঞ্জুর করা হয়।
বাদী সুপ্তি আক্তারের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামলার আসামি কামরুল ফকির তাকে মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।বাদীপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ১ নম্বর আসামি শাহাদাত ফকিরের জামিন যেন মঞ্জুর করা না হয়। একই সঙ্গে জামিনে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে বাদীকে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।তবে মামলায় বাদীপক্ষের আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে মামলার আসামিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী আসামিদের নির্দোষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।