ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগৈলঝাড়ায় ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আদালতে আসামির আত্মসমর্পণ

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৩২ Time View
Print

 

মো:আশরাফ বরিশাল ক্রাইম রিপোর্টার:-

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ৯ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত বুধবার (৫ই আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের বড়ইতলা দক্ষিণ গৈলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার।
অভিযুক্ত ব্যক্তি উপজেলার উত্তর শিহিপাশা এলাকার আলেক ফরিয়ার ছেলে সাত্তার ফরিয়া (৬০)। তিনি ভুক্তভোগী সিনাহা আক্তার মুনিয়া প্রতিবেশী চাচাতো ভাইয়ের শ্বশুর বলে জানা গেছে।
মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শিশুটি উপজেলার নগরবাড়ী এলাকার দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মনির সরদার ২০১৭ সালে মারা যান। এরপর মা ফাতেমা বেগম মেয়েকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন।
পরিবারের অভিযোগ, সাত্তার ফরিয়া বিভিন্ন সময় শিশুটির পাশের বাড়িতে মেয়ে বিয়ে দেওয়ায় সুবাদে
যাতায়াত করতেন। এ সুযোগে তিনি শিশুটিকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টায় শিশুটির মা বয়স্ক ভাতার আবেদন করতে আগৈলঝাড়া বাজারে যান। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাত্তার ফরিয়া শিশুটির ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
ঘটনার পর শিশুটি বিষয়টি কিছুদিন পরে তার মাকে জানালে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত সাত্তার ফরিয়ার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বলেন,
“আমার ছোট মেয়ে মাত্র ৯ বছরের। তার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়াশোনা করাচ্ছি। আমি চাই, আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি হোক।”
এ বিষয়ে মুনিয়ার বাড়ির প্রতিবেশী আব্দুর রহমান বলেন, “অপরাধ যে-ই করুক, তার শাস্তি হওয়া উচিত। সে আমার শ্বশুর হলেও অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আমি প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে
আজ বৃহস্পতিবার ২৭আগস্ট সকালে
ধর্ষণকারী সত্তার ফরিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

আগৈলঝাড়ায় ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আদালতে আসামির আত্মসমর্পণ

Update Time : ০৩:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
Print

 

মো:আশরাফ বরিশাল ক্রাইম রিপোর্টার:-

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ৯ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত বুধবার (৫ই আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের বড়ইতলা দক্ষিণ গৈলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার।
অভিযুক্ত ব্যক্তি উপজেলার উত্তর শিহিপাশা এলাকার আলেক ফরিয়ার ছেলে সাত্তার ফরিয়া (৬০)। তিনি ভুক্তভোগী সিনাহা আক্তার মুনিয়া প্রতিবেশী চাচাতো ভাইয়ের শ্বশুর বলে জানা গেছে।
মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শিশুটি উপজেলার নগরবাড়ী এলাকার দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মনির সরদার ২০১৭ সালে মারা যান। এরপর মা ফাতেমা বেগম মেয়েকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন।
পরিবারের অভিযোগ, সাত্তার ফরিয়া বিভিন্ন সময় শিশুটির পাশের বাড়িতে মেয়ে বিয়ে দেওয়ায় সুবাদে
যাতায়াত করতেন। এ সুযোগে তিনি শিশুটিকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টায় শিশুটির মা বয়স্ক ভাতার আবেদন করতে আগৈলঝাড়া বাজারে যান। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাত্তার ফরিয়া শিশুটির ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
ঘটনার পর শিশুটি বিষয়টি কিছুদিন পরে তার মাকে জানালে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত সাত্তার ফরিয়ার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বলেন,
“আমার ছোট মেয়ে মাত্র ৯ বছরের। তার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়াশোনা করাচ্ছি। আমি চাই, আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি হোক।”
এ বিষয়ে মুনিয়ার বাড়ির প্রতিবেশী আব্দুর রহমান বলেন, “অপরাধ যে-ই করুক, তার শাস্তি হওয়া উচিত। সে আমার শ্বশুর হলেও অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আমি প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে
আজ বৃহস্পতিবার ২৭আগস্ট সকালে
ধর্ষণকারী সত্তার ফরিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।