কেরুর রেকর্ড মুনাফায় তারেক জিয়া ঐক্যফ্রন্টের অভিনন্দন ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ টাকার নিট মুনাফা
- Update Time : ০৮:০৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪১ Time View

ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ জসিম উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি :
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ নিট মুনাফা অর্জন করায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া ঐক্যফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটি।
রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় এক অভিনন্দন বার্তায় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ কেরু অ্যান্ড কোম্পানির এই সাফল্যকে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ছয়টি ইউনিট মিলিয়ে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ছিল প্রায় ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
তবে একই সময়ে চিনি কারখানা ইউনিটে ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। অন্যদিকে ডিস্টিলারি ও অন্যান্য লাভজনক ইউনিটের আয় সেই ঘাটতি পুষিয়ে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে রেকর্ড মুনাফার মুখ দেখিয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া ঐক্যফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসাইন খান বলেন, দীর্ঘদিনের নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি যে রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।
তিনি বলেন, কেরু শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, দর্শনা তথা চুয়াডাঙ্গার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক, দক্ষ ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেরু অ্যান্ড কোম্পানিকে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রাব্বিক হাসান বলেন, এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীলতা ও নিরলস পরিশ্রমের ফলেই কেরু অ্যান্ড কোম্পানি এই অবস্থানে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইউনিটের সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এবং উৎপাদন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেরু অ্যান্ড কোম্পানিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ভবিষ্যতেও পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে।
তিনি প্রতিষ্ঠানের এই সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক, আখচাষি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দর্শনা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির এই রেকর্ড মুনাফা দর্শনাবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সাফল্যের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, বিশেষ করে চিনি কারখানা ইউনিটে লোকসান থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য ইউনিটের সাফল্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে। এখন প্রয়োজন কেরুর প্রতিটি ইউনিটকে আধুনিকায়ন করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করা।
তিনি কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রাব্বিক হাসানসহ প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য কামনা করেন।
অভিনন্দন বার্তায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া ঐক্যফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান এবং দর্শনা থানা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শফিউদ্দিন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া ঐক্যফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রাব্বিক হাসান, উপমহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন) সুমন কুমার সাহা, উপমহাব্যবস্থাপক (কৃষি বিভাগ) মোঃ আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপক (এফএল), ডিস্টিলারি মোঃ রাজিবুল হাসান, ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আল-ফারুক ওমর শরীফ গালিবসহ প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আধুনিকায়ন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং উৎপাদনশীলতা আরও বাড়ানো গেলে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় শিল্পখাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
উল্লেখ্য, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি দেশের অন্যতম পুরোনো রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবছর দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকার নিট মুনাফা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হিসেবে উঠে এসেছে।
কেরুর এই সাফল্যে দর্শনায় বইছে আনন্দের হাওয়া। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রেকর্ড মুনাফার এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি আরও শক্তিশালী ও লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
























