ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিগপাইত ইউপি শহীদ মিনারে মুরগি জবাই করে রক্ত-ময়লার স্তূপ: প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ১০:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩১ Time View
Print

​মো: শিহাব মাহমুদ,জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:

জামালপুর সদরের ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চরম অবমাননা ও অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শহীদ মিনারের পবিত্র বেদি ও আশপাশের এলাকায় মুরগি জবাই করে রক্ত ও ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মচারী মিনহাজের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

​সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ঠিক সামনে অবস্থিত শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ও সিঁড়িতে রক্ত ছরিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এছাড়া শহীদ মিনারের চারপাশে মুরগির পালক, বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে রেখে এক নোংরা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় বীরদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত এই পবিত্র স্থানটির প্রতি এমন অবমাননা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ।

​স্থানীয় এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাশেই ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা শহীদ মিনারের মর্যাদার প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান দেখাননি। সেখানে মুরগির বর্জ্য ও রক্ত ফেলে জাতীয় শহীদ মিনারকে চরমভাবে অপমানিত করা হয়েছে।”

​শহীদ মিনার চত্বরের এই বিশৃঙ্খল পরিবেশের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান-এর বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত হন না। এর ফলে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি দাপ্তরিক কাজের জন্য পরিষদে আসা সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রতিদিন চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

​অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান-এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আজকে আমি অফিসে গিয়েছিলাম কিন্তু জরুরি কাজে বের হতে হয়েছে। শহীদ মিনারে ময়লা ফেলার বিষয়টি আমার নজরে আসেনি।”
​প্রতিনিয়ত দেরিতে অফিসে আসার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন দেরিতে আসি না, নিয়মিত উপজেলাতে দাপ্তরিক কাজ থাকার কারণে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারি না।”
​তিনি আরও দাবি করেন, “আমি সকাল আটটায় অফিসে পৌঁছে অনেক সময় রাত আটটা পর্যন্ত কাজ করি।” নির্ধারিত অফিস সময়ের বাইরেও কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, দাপ্তরিক প্রয়োজনেই তাঁকে অনেক সময় অফিস সময়ের পরেও কাজ করতে হয়।

সচেতন মহলের দাবি, ​ভাষা শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত এই পবিত্র বেদিতে অবমাননাকারী প্রশাসনিক কর্মচারী মিনহাজ এবং দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলাকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সাথে শহীদ মিনার এলাকা দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে এর পবিত্রতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

দিগপাইত ইউপি শহীদ মিনারে মুরগি জবাই করে রক্ত-ময়লার স্তূপ: প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : ১০:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
Print

​মো: শিহাব মাহমুদ,জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:

জামালপুর সদরের ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চরম অবমাননা ও অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শহীদ মিনারের পবিত্র বেদি ও আশপাশের এলাকায় মুরগি জবাই করে রক্ত ও ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মচারী মিনহাজের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

​সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ঠিক সামনে অবস্থিত শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ও সিঁড়িতে রক্ত ছরিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এছাড়া শহীদ মিনারের চারপাশে মুরগির পালক, বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে রেখে এক নোংরা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় বীরদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত এই পবিত্র স্থানটির প্রতি এমন অবমাননা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ।

​স্থানীয় এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাশেই ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা শহীদ মিনারের মর্যাদার প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান দেখাননি। সেখানে মুরগির বর্জ্য ও রক্ত ফেলে জাতীয় শহীদ মিনারকে চরমভাবে অপমানিত করা হয়েছে।”

​শহীদ মিনার চত্বরের এই বিশৃঙ্খল পরিবেশের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান-এর বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত হন না। এর ফলে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি দাপ্তরিক কাজের জন্য পরিষদে আসা সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রতিদিন চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

​অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান-এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আজকে আমি অফিসে গিয়েছিলাম কিন্তু জরুরি কাজে বের হতে হয়েছে। শহীদ মিনারে ময়লা ফেলার বিষয়টি আমার নজরে আসেনি।”
​প্রতিনিয়ত দেরিতে অফিসে আসার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন দেরিতে আসি না, নিয়মিত উপজেলাতে দাপ্তরিক কাজ থাকার কারণে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারি না।”
​তিনি আরও দাবি করেন, “আমি সকাল আটটায় অফিসে পৌঁছে অনেক সময় রাত আটটা পর্যন্ত কাজ করি।” নির্ধারিত অফিস সময়ের বাইরেও কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, দাপ্তরিক প্রয়োজনেই তাঁকে অনেক সময় অফিস সময়ের পরেও কাজ করতে হয়।

সচেতন মহলের দাবি, ​ভাষা শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত এই পবিত্র বেদিতে অবমাননাকারী প্রশাসনিক কর্মচারী মিনহাজ এবং দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলাকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সাথে শহীদ মিনার এলাকা দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে এর পবিত্রতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।